শিরোনাম
ঢাকা আসছেন বিলাল আব্বাস, দেখা করবেন যেভাবে দেশের কোনো ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে গণপিটুনিতে দুজনের মৃত্যু আরও ৬ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিল ‘প্রবাস’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতা দলের তারেক রহমান ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা-দাম্মাম ও ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইট স্থগিত আ.লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি: জামায়াত আমির যেকোনো বাধা উপেক্ষা করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক
দীপ্ত নিউজ
রংপুর বিভাগ

মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে আস্ত একটি নদী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ:
মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে আস্ত একটি নদী
মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে আস্ত একটি নদী

ঠাকুরগাঁওয়ের চিরচেনা একটি নদীর নাম ভক্তি নদী। সদরের উপজেলার ভেলাজান দিয়েই বয়েগেছে এই নদী। জনশ্রুতি আছে একসময়ের খরস্রোতা ভক্তি নদীতে জাহাজ চলত। তবে” সিএস, আর এস ম্যাপে” পাওয়া যায়নি এই নদীটির কোনো অস্তিত্ব। তার নাম নেই জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তালিকায়ও।

ঠাকুরগাঁওয়ের ভেলাজান বাজার ব্রিজেদিয়ে যাওয়ার পথে বাঁ পাশে তাকালে চোখে পড়ে রংচটা একটি সাইনবোর্ড। তাতে লেখা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঠাকুরগাঁও। ভক্তি নদী, মোট দৈর্ঘ্য ৫ কিলোমিটার।’ ভক্তি নদীর উৎপত্তি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ও চিলারং ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নভূমি থেকে। নদীটি মূলত রাণীশংকৈল উপজেলার কুলিক নদীর উপনদী। রুহিয়া, আখানগর, চিলারং এবং রায়পুর ইউনিয়ন অতিক্রম করেছে ভক্তি নদী।

ঠাকুরগাঁও সদরের ভেলাজান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীটি এখন নিম্নভূমিতে পরিণত হয়েছে। সেখানে চাষ হচ্ছে ধান আর ভুট্টা। তবে বর্ষাকালে এই নদীতে প্রচুর পানিপ্রবাহ থাকে। তাই নদীটি দ্রুতই খনন প্রয়োজন বলে মনে করছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভেলাজান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘২০০ বছর আগে এই নদী দিয়ে জাহাজ চলত। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার সওদাগর ব্যবসার কাজে জাহাজে করে এ পথ দিয়ে মালামাল নিয়ে যেতেন ভারতে। এসব কথা বাবার মুখে শুনেছি।’

নদীর পাড়ের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী হাসান আলী বলেন, তিনি তাঁর দাদার মুখে শুনেছেন ভক্তি নদীতে একটি জাহাজ ডুবে গিয়েছিল। জনশ্রুতি আছে, এক পীরের অভিশাপে ভেলাজান যাওয়ার পথে ঝোড়ো বাতাস আর খরস্রোতে জাহাজটি ডুবে যায়। এরপর জাহাজটির খোঁজ পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: নদীর ক্ষতি করে উন্নয়ন প্রকল্প না: প্রধানমন্ত্রী

আবুল হোসেন নামের একজন বলেন, বিভিন্ন সময়ে খাল খনন করতে গিয়ে জাহাজের পুরোনো লোহার টুকরা আর কাপড়ের পুঁটলি পাওয়া গেছে। তবে কাপড়গুলো হাতে নিলে মিহি গুঁড়া হয়ে যেত। এলাকাবাসীর ধারণা, নদী খননে যেসব ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, সেগুলো ডুবে যাওয়া ওই জাহাজেরই।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্র বলেছে, সম্প্রতি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ভক্তি নদী। এ বিষয়ে কমিশন চিঠি দিলে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক আট সদস্যের একটি কমিটি করেন।

সদর উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. আবু তালেব বলেন, এসএ, সিএস এবং আরএস রেকর্ডের নকশায় নদীটির অস্তিত্ব নেই।

জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম যাকারিয়া বলেন, ‘১৮৩৬ সালে ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে নদীটি বিলীন হয়ে যায় বলে জানতে পেরেছি। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন থেকে একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, ঠাকুরগাঁওয়ে ভক্তি নামে একটি নদী রয়েছে। কিন্তু কমিশনের তালিকায় নদীটি বাদ পড়েছে।

পরে জেলা প্রশাসক আট সদস্যের কমিটি গঠন করেন। ‘স্থানীয়দের মুখে এ নদীর নাম শুনে এর নামকরণ করা হয়েছে। এখন এটি নিম্নভূমি। বর্ষাকালে দেড় থেকে দুই মাস পানি থাকে। এর সমস্ত জমি ব্যক্তিমালিকানাধীনে রেকর্ড রয়েছে।’

 

 

হিমেল / আল / দীপ্ত সংবাদ

এই সংবাদে মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ আছে।