ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ভূ–রাজনৈতিক চরম অস্থিরতার কারণে ভেঙে পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। এর সরাসরি কোপ পড়েছে ডিজেল বাজারে। বিশ্বজুড়ে ডিজেলের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে, যার ফলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানিটির দাম পৌঁছেছে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডে।
যুদ্ধ ও সরবরাহ ব্যাহত
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত এবং সৌদি আরবের সাথে হুতিদের নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা বিরোধ সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ ডিজেল বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে পারছে না। এর বড় আঘাত পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে; ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা সেখানে খাদ্যদ্রব্যসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম হু–হু করে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
গুদামে নেই ডিজেল
ডিজেল সংকট যে দ্রুত মিটছে না, তার বড় প্রমাণ মিলছে জ্বালানি সংরক্ষণ (স্টোরেজ) খাত থেকে। আন্তর্জাতিক স্টোরেজ ব্রোকার প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ট্যাংক টাইগারের’ তথ্য বলছে, উত্তর আমেরিকার বড় বড় শোধনাগার ও ব্যবসায়ীরা এখন আর গুদাম বা স্টোরেজের লিজ নবায়ন করছেন না। কারণ, গুদামে জমিয়ে রাখার মতো উদ্বৃত্ত ডিজেলই কারো কাছে নেই।
ভোক্তার ওপর চাপ ও দীর্ঘমেয়াদি আশঙ্কা
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, আগামী বছরের মধ্যেও এই সরবরাহ ঘাটতি কাটানো সম্ভব হবে না। ফলে এর তীব্র চাপ বহাল থাকতে পারে ২০২৭ সাল পর্যন্ত।
ডিজেল কেবল পরিবহনের জ্বালানি নয়; কৃষি সেচ, পণ্য পরিবহন এবং শিল্প কারখানার চাকা ঘুরিয়ে রাখার মূল চালিকাশক্তি। ফলে জ্বালানির এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর কারখানা থেকে শুরু করে খামার পর্যন্ত এই বাড়তি খরচের চূড়ান্ত মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাকেই।