কেউ পরে এসেছেন মেসির মুখোশ, কারো হাতে বুবুঝেলা ও বিশ্বকাপের ডেমো, আবার কারো হাতে আর্জেন্টিনার সাদা ও নীল জাতীয় পতাকা।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৭টায় ফেনী পুরাতন কারাগারের সামনে এভাবেই হাজির হন ১০ হাজারের বেশি ভক্ত। কারণ একটাই, ২৫ ফুটের বিশাল এলইডি স্ক্রিনে আর্জেন্টিনার খেলা দেখা।
ফ্রান্স বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা–আলজেরিয়ার প্রথম ম্যাচের খেলা উপভোগ করতে দুই ঘণ্টার জন্য ফেনী পাইলট স্কুলের গেট থেকে শুরু করে পৌরসভার সামনে, পেট্রল পাম্পের সামনে ও ফাইভ স্টার হোটেলের সামনে, স্মৃতিস্তম্ভের প্রাঙ্গণ লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা সমর্থকরা সারাক্ষণ জয়ধ্বনি দিচ্ছেন মেসির নামে। তাদের মধ্যে তরুণ বেশি। তবে কিছু তরুণীকেও দেখা গেছে। বিশ্বকাপ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়া বিপক্ষে মেসি ৩ গোল দিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাট্রিক করায় বিজয় উল্লাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত সবাই।
খেলা শেষে আর্জেন্টিনা ভক্ত মুস্তাফিজ মুরাদ বলেন, বড় পর্দায় আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে এসেছিলাম। দুর্দান্ত খেলে প্রিয় দল আর্জেন্টিনা ৩–০ গোলে আলজেরিয়াকে হারিয়েছে।
আর্জেন্টিনা ভক্ত আতিয়ার সজল বলেন, সবাই মিলে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করেছি। সামনের খেলাগুলোতেও আর্জেন্টিনা ভালো করবে।
মুহিব্বুল্লাহ ফরহাদ বলেন, খেলাতো নয় যেন জাদুর ছন্দ। প্রথম ম্যাচে মেসি যে জাদু দেখালো তা ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। বিশ্বকাপে তার ১৬টি গোল এটিও বিরল ঘটনা।
এর আগে, ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে বিশ্বজুড়ে যখন ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে, তখন সেই উন্মাদনার ঢেউ লেগেছে ফেনীতেও। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি ভালোবাসা, সমর্থন ও উচ্ছ্বাস প্রকাশে মঙ্গলবার বিকেলে ফেনীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এক বর্ণাঢ্য পতাকা শোভাযাত্রা।
শোভাযাত্রাটি ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠ থেকে শুরু হয়ে শহরের জেল রোড, ট্রাঙ্ক রোড, মিজান রোড ও কলেজ রোড প্রদক্ষিণ করে পাইলট স্কুল মাঠে এসে শেষ হয়।
আর্জেন্টিনা ফ্যানবেজ ফেনী–এর আয়োজনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারো আর্জেন্টিনা সমর্থক, ফুটবলপ্রেমী তরুণ–যুবক ও বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ এ শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
আয়োজক বেলাল হোসেন বলেন, আকাশি–সাদা পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন, জার্সি এবং নানা উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের আনন্দ–উচ্ছ্বাসকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি কোটি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। সেই আবেগকে উদযাপন করতেই এ শোভাযাত্রার আয়োজন।