কিছুদিন আগেও যেটা ছিল শুধুই গুঞ্জন, আজ সেটা বাস্তবতার খুব কাছাকাছি। অবশেষে কেটে গেছে সব ধোঁয়াশা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আরেক অরিজিন ফুটবলার ফারহান আলী ওয়াহিদ হাতে পেয়েছেন বাংলাদেশের জন্মনিবন্ধন। লাল সবুজের জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নামার পথে আর বড় কোনো বাধা নেই। সবকিছু ঠিক থাকলে আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেই হামজা চৌধুরীর পাশে দেখা যেতে পারে এই প্রতিভাবান উইঙ্গারকে।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাগুলোর একটি ছিল আক্রমণভাগ। বছরের পর বছর একজন ধারালো ফরোয়ার্ডের অভাব ভুগিয়েছে দলকে। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর দায়িত্বটা হয়তো কাঁধে তুলে নিচ্ছেন ফারহান আলী ওয়াহিদ।
একবার কল্পনা করুন ফরোয়ার্ড লাইনে এক পাশে ফারহান আলী ওয়াহিদ, অন্য পাশে ফাহমিদুল। তাদের পেছনে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে রোনান সুলিভান। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়া, শেখ মোরসালিন ও সমিত সোম। ডিফেন্সে তারিক কাজী, সাদ উদ্দিন ও তপু বর্মন। আর গোলবারের নিচে আনিসুর রহমান জিকো।
এই স্কোয়াডের সামনে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ কি সত্যিই সহজে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে?
বিদেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের ঘিরে এখন নতুন স্বপ্ন বুনছে পুরো দেশ। হামজার পরে ফারহান আলী ওয়াহিদ সেই স্বপ্নেরই অন্যতম বড় নাম। ইংলিশ ক্লাব ফুলহামের সিনিয়র দলের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই তরুণ উইঙ্গার ইতোমধ্যেই মূল দলের সঙ্গে প্রি–সিজন ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। সেটাই বলে দেয়, তার সম্ভাবনা কতটা উজ্জ্বল।
তবে শুধু ফারহানই নন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার আলো ছড়াচ্ছেন সুলিভান ব্রাদার্সও। অনূর্ধ্ব–২০ দলের জার্সিতে তারা ইতোমধ্যেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। বয়স কম হলেও আত্মবিশ্বাস আর ফুটবল আইকিউ দুটোই নজর কাড়ার মতো।
অন্যদিকে হামজা চৌধুরী তো আছেনই। ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা, ফারহানের গতি, সুলিভান ব্রাদার্সের সৃজনশীলতা সব মিলিয়ে বাংলাদেশের মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে তৈরি হচ্ছে এক নতুন শক্তি। এই কারণেই সমর্থকদের প্রত্যাশাও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।
আগামী নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের মাটিতেই বসবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। প্রায় ২ যুগ ধরে যে ট্রফির জন্য অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ, সেটি ঘরে ফেরানোর এটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় সুযোগ।
শেষবার বাংলাদেশ সাফের শিরোপা জিতেছিল ২০০৩ সালে। তারপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। অসংখ্য হতাশা, ব্যর্থতা আর অপূর্ণতার গল্প জমেছে এই সময়টায়। হয়তো এবারই সেই গল্প বদলে দেওয়ার উপযুক্ত সময়।
তবে বাফুফের পরিকল্পনা শুধু একটি টুর্নামেন্ট জেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা সাময়িক সাফল্যের পেছনে ছুটছে না। লক্ষ্য আরও বড়, আরও দীর্ঘমেয়াদি।
নতুন প্রধান কোচ ডুলি স্পষ্ট করেই বলেছেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যারা খেলবে স্পেনের মতো পাসিং ফুটবল আর ফ্রান্সের মতো গতি নিয়ে। সেই লক্ষ্য পূরণে এখন থেকেই সাজানো হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
সান মারিনোর বিপক্ষে জয় দিয়ে প্রথম পরীক্ষায় ইতোমধ্যেই সফল হয়েছেন ডুলি। এবার সামনে দ্বিতীয় পরীক্ষা, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ।
লাল সবুজের জার্সিতে ফারহান, হামজা, সুলিভান ব্রাদার্সসহ নতুন প্রজন্মের এই ফুটবলাররা মাঠে নেমে সত্যিই কি বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাস বদলে দিতে পারবেন? মরক্কো যেই মডেল ব্যবহার করে ফুটবলে বিপ্লব ঘটিয়েছে বাংলাদেশও সেই মডেলেই হাটছে।
জুবায়েদ/এসএ