সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে। নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে।
সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটি বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসচিব, স্বাস্থ্যসেবাসচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এক দফা সময় বৃদ্ধির পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশনের প্রধান ছিলেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান।
কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে নাসিমুল গনি কমিটি। মূল সুপারিশ থেকে সামান্য কমিয়ে এ কমিটি প্রথমে ৩ অর্থবছরে ও পরে ২ অর্থবছরে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের খসড়া সুপারিশ করে।
সোমবার (৬ জুলাই) বৈঠকে চলতি অর্থবছরে মূল বেতন এবং পরের অর্থবছরে ভাতা দেওয়ার পক্ষেই সব সদস্য অবস্থান নেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, যা ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় খুব বেশি নয়।
কমিটি সূত্র জানায়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে আরও এক সপ্তাহ আগে। বিচার বিভাগের বেতনকাঠামোর জন্য কিছু কারিগরি দিক ছিল, যা সমাধান হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকেই মূল বেতন দেওয়া হবে, আর পরের অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে দেওয়া হবে ভাতা—এটি নিশ্চিত। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আইনি পরীক্ষা–নিরীক্ষার (ভেটিং) জন্য তা যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। এরপর প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
এসএ