শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় টানা বর্ষণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

চুয়াডাঙ্গায় কয়েক ঘণ্টার টানা ভারী বৃষ্টিপাতে শহর থেকে গ্রাম সবখানেই সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলের মাঠ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও হাঁটু পানি জমেছে, আবার কোথাও সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান। এছাড়া শুক্রবার সারাদিন গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হয়। সবমিলিয়ে গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত জেলায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়।

এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে জেলার অধিকাংশ এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি জমে গেছে। বিশেষ করে কৃষি জমিতে পানি জমে বিভিন্ন ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক মাঠে পানি জমে থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বৃষ্টির পানিতে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কেও হাঁটু পানি জমে যায়। এতে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।

এদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর কাঠালতলা থেকে কুমারীদহ গ্রামে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একটি অংশ ভেঙে পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ওই এলাকার মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াতে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল আলী বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে জয়রামপুর কাঠালতলা থেকে কুমারীদহ যাওয়ার সড়কটি ভেঙে গেছে। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচল করে। রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন এলাকার মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে দামুড়হুদা উপজেলার হাতিভাঙ্গা গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকায় মাথাভাঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীপাড়ের কয়েকটি বাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নদী ভাঙনের আশঙ্কা করছেন তারা।

হাতিভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা বায়েজিত বলেন, বৃষ্টির কারণে মাথাভাঙ্গা নদীর পানি অনেক বেড়ে গেছে। নদীর পাশে থাকা কয়েকটি বাড়ি এখন ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি আরও বাড়লে বাড়িগুলো বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।

অন্যদিকে কার্পাসডাংগা এলাকার সালেকীন নামের একজন বলেন, রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে আমাদের মাঠের অনেক জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফসল নিয়ে এখন খুব দুশ্চিন্তায় আছি। পানি দ্রুত নেমে না গেলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

আতিয়ার মিয়া নামের এক ব্যক্তি বলেনঅনেক কষ্ট আর খরচ করে ফসল করেছি, এখন আবহাওয়ার ওপরই সব নির্ভর করছে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, রাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

রাতে আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়। সবমিলিয়ে ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া আগামী দুদিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More