ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় এবার ছোট–বড় খামারিরা কোরবানির ঈদের জন্য পোষা পশুগুলোকে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে। নলছিটিতে প্রতিবারের মতো এবারও চাহিদার যোগান দিতে ফার্মে প্রয়োজনী গরু সরবারাহ করে লালন পালন করছে খামারিরা। খামারি ও গিরস্থালি ঘরে প্রায় ৩ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
খামারিরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে খুদের ভাত, আলু, খেসারি, মসুর, চিটাগুড়, লবণ, খড় ও ধানের গুঁড়া ও ভিটামিন খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। কোরবানির ঈদে নিরাপদ মাংস যাতে মানুষ পায়।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নলছিটি উপজেলায় অসংখ্য ছোট–বড় খামার গড়ে উঠেছে। ব্যাপকভাবে দেশি গরু মোটাতাজা করা হয়েছে প্রাকৃতিক উপায়ে। তবে গো–খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু কোরবানি লালন পালন করতে ব্যয় অনেক বেড়েছে।
স্থানীয় গরুর বেশী চাহিদা থাকায় কোরবানির পশুর হাটে প্রচুর পরিমাণে নিজেস্ব খামারের পশু কেনাবেচা হয়। উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামের খামারি শাহ আলম জানান তিনি একটি সরকারি অফিসে চাকুরি করতেন শারীরিক অসুস্থতার কারনে চাকুরি ছেড়ে গ্রামে গরুর খামার গড়ে তুলেছেন।কোরবানির ঈদে বাজার দর ভালো থাকলে মোটামুটি লাভবান হবেন বলে জানান তিনি।
অনুরাগ গ্রামের রুহুল আমিন জানান বরিশালে একটি এনজিওতে চাকুরি করতেন করোনাভাইরাস কালে তার চাকরি চলে যায়, পরে তিনি পৈতৃক সম্পত্তিতে একটি গরুর খামার গড়ে তুলে প্রথমে তিনি ৫ টি গরু দিয়ে শুরু করলেও তিন বছরে মধ্যে তার খামারে এবার কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য ২৬ টি ছোট বড় গরু রয়েছে । অবৈধ পথে ভারত থেকে গরু না এলে ভালো লাভবান হবেন এমন প্রত্যাশা তার ।প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং পরামর্শে খামারিরা সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন বলে দাবি তাদের।
নলছিটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ হাফিজুর রহমান, জানান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এসব গরু পালনে তাদের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে খামারিদের পরামর্শ দিচ্ছে এবং যাবতীয় সহযোগীতা কারছে এবং উপজেলায় কোরবানির চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পশু রয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ ছাহেব আলি জানান, জেলায় কোরবানির জন্য সাড়ে ১৮ হাজার মত পশুর চাহিদা রয়েছে, তবে এর বিপরিতে আমাদের খামারি ও গিরস্থালি ঘরে ১৮ হাজার ৮ শত ৬১ টি পশু প্রস্তুত আছে,যা চাহিদার চাইতে কিছুটা বেশী।
খালিদ হাসান/ আল /দীপ্ত সংবাদ