মঞ্চে সহ–অভিনেতার সঙ্গে পারফর্ম করছিলেন অভিনেত্রী। এক পর্যায়ে সহ–অভিনেতার বুকে মাথা রাখেন অভিনেত্রী। আর দর্শকরা তাদের মোবাইল ফোনে এমন দৃশ্য ধারণ করলে পরবর্তীতে তা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানে একটি নাট্যদলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন দেশটির প্রসিকিউটররা। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি দৃশ্যটি সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থি।
ঘটনাটি ঘটেছে ‘তেহরান প্যারিস তেহরান’ নামের একটি নাটকে। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন ফাতেমেহ মাসৌদিফার ও মেহরদাদ সেদিঘিয়ানে। একটি দৃশ্যে ফাতেমেহকে মেহরদাদের বুকের দিকে মাথা ঝুঁকিয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় মেহরদাদও তার মাথায় হাত রাখেন। দর্শকদের ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই শুরু হয় বিতর্ক।
এরপর ইরানের প্রসিকিউটররা নাট্যদলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। দেশটির বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে মঞ্চে ‘সামাজিক রীতি ও শালীনতার’ পরিপন্থি আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিতর্কিত দৃশ্যটি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে নাট্যদলটি। তাদের দাবি, দর্শকের মুঠোফোনে খুব কাছ থেকে ও নির্দিষ্ট কোণ থেকে ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। ফলে ক্যামেরায় অভিনেতা–অভিনেত্রীর প্রকৃত দূরত্ব বোঝা যায়নি।
নাট্যদল আরও জানিয়েছে, ওই দৃশ্যের দুই চরিত্র আসলে ভাই–বোন। গল্পের একটি সংকটময় মুহূর্তে দৃশ্যটি রাখা হয়েছে। পরবর্তীসময়ে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে মঞ্চে দুই অভিনয়শিল্পীর অবস্থানও পরিবর্তন করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই এমন নারী–পুরুষের প্রকাশ্য শারীরিক স্পর্শের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। এর আগেও দেশটিতে শিল্পীদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।