তিন মাস পর মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে সিংগাইর থেকে উদ্ধার করেছেন তার স্বামী।
বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তার সন্ধান পাচ্ছিলেন না স্বজনরাসহ স্বামী আলী হোসেন। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেখে সেই নিখোঁজ স্ত্রীকে খুঁজে পেয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভয়েস অব রবিউল ভাই পেজের কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রাম থেকে স্ত্রীকে ফিরে পান ৫৭ বছর বয়সী আলী হোসেন। তিনি পেশায় দর্জি। তার বাড়ি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের ভাঙ্গাবাড়ি গ্রামে।
আলী হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রী পাঁচ বছর আগে অসুস্থ হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন। তখন ঢাকায় চিকিৎসা করানোর পর তিনি সুস্থ হন, কিন্তু তিন বছর আগে আবার অসুস্থ হয়ে তিনি ৯ দিন নিখোঁজ ছিলেন। পরে সুস্থ হলেও এবার আবারও নিখোঁজ হয়ে যান। দুই মাস ২৩ দিন পর আমি তাকে খুঁজে পেয়েছি। যে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ভিডিওর মাধ্যমে স্ত্রীর খোঁজ পেয়েছি, তাকে ধন্যবাদ।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন মানসিকভাবে অসুস্থ ওই নারী। স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খুঁজতে আত্মীয়–স্বজনের বাড়ি, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন জায়গায় ছুটে বেড়ান তার স্বামী। দীর্ঘদিন খোঁজ করেও স্ত্রীর সন্ধান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি।
এদিকে মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় নিখোঁজ ওই নারী নিজের নাম–ঠিকানাও ঠিকমতো বলতে পারছিলেন না। পরে তাকে সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের রাস্তার পাশে অসহায় অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। কখনো মানুষের কাছে খাবার চাইতেন, আবার কখনো রাস্তার পাশেই অবস্থান করতেন তিনি।
এ সময় ওই নারীকে দেখতে পান স্থানীয় ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক। তিনি ‘ভয়েস অব রবিউল ভাই’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই নারীর একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তার অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একপর্যায়ে তা ওই নারীর স্বামীর নজরে আসে। ভিডিও দেখে তিনি স্ত্রীকে শনাক্ত করেন।
ভিডিওতে স্ত্রীকে দেখার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বামী। দীর্ঘদিন পর স্বামীকে দেখে ওই নারীও তাকে চিনতে পারেন। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় লোকজনও আবেগঘন ওই দৃশ্যের সাক্ষী হন।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক বলেন, ওই নারীকে অসহায় অবস্থায় দেখে ভিডিও করে ফেসবুকে শেয়ার করেছিলাম, যেন পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ পান।। পরে তার স্বামী ভিডিওটি দেখে যোগাযোগ করেন এবং এসে তাকে নিয়ে যান।
স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার পর স্বামী আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন পর পরিবারের একজন সদস্যকে ফিরে পাওয়ায় স্বজনদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে আসে।