ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা–কর্মচারীরা আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠেয় পরিচালনা পর্ষদের সভায় স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি বিধিমালা কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বুধবার (২৯ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমটিসিএলের নিয়মিত কর্মকর্তা–কর্মচারীদের পক্ষে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল প্রতিষ্ঠার পর এক যুগ পার হলেও ৯০০–এর বেশি নিয়মিত কর্মকর্তা–কর্মচারীর জন্য এখনো স্বতন্ত্র চাকরি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর থেকে কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করলেও চাকরি বিধিমালা না থাকায় শৃঙ্খলা, চাকরির নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে অনিশ্চয়তা, বৈষম্য ও অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তারা আরও বলেন, দেশের অন্যান্য সমমানের সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে সার্ভিস রুলস কার্যকর থাকলেও ডিএমটিসিএলে তা না থাকায় প্রশাসনিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও যাত্রীসেবার ওপরও পড়ছে বলে দাবি করেন তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাকরি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। পরে পরিচালনা পর্ষদের ৭৫তম সভায় সার্ভিস রুলস অনুমোদন দেওয়া হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। কর্মীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও আশ্বাস ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তাদের দাবি, সার্ভিস রুলস ও অর্গানোগ্রাম কার্যকরের বিষয়ে জানতে চাইলেও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। এ কারণে ২৮ জুলাই সকাল থেকে নিয়মিত কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে কর্মীরা বলেন, ৩০ জুলাইয়ের বোর্ড সভায় সার্ভিস রুলস কার্যকরের সিদ্ধান্ত না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। এর ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে তার দায়ভার ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পরও চাকরি–বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি। কোম্পানিটিতে যোগ দেওয়া কর্মচারীরা ছুটি, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, শিফট–অ্যালাউন্স, ওভারটাইম, গ্রুপ বিমা সুবিধা দাবি করছেন। চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং চুক্তিতে এসব সুবিধার উল্লেখ নেই।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখেন মেট্রোরেলের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সরকারি কোম্পানি ডিএমটিসিএলের নিয়মিত কর্মকর্তা–কর্মচারীরা।