শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ বিদায়েও দুর্ভোগ, গলা সমান পানি পেরিয়ে মরদেহ কবরস্থানে

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্ত ঘেঁষা হরিপুর উপজেলার ফালডাঙ্গী গ্রামে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে গলা সমান পানি পেরিয়ে এক বৃদ্ধার মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে দাফন করতে হয়েছে স্বজনদের। হৃদয়বিদারক এ দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনাসমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে কবরস্থানে যাতায়াতের রাস্তা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই )বিকেলে উপজেলার ৪ নম্বর ডাঙ্গিপাড়া ইউনিয়নের ফালডাঙ্গী গ্রামে ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান গ্রামের বাসিন্দা মফিজান বেগম। জানাজার পর তাকে দাফনের জন্য স্থানীয় কবরস্থানে নেওয়ার উদ্যোগ নেন সন্তান ও স্বজনরা। কিন্তু কবরস্থানে যাওয়ার প্রধান প্রবেশপথ টানা বর্ষণের পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে যাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় শেষ পর্যন্ত গলা সমান পানি পেরিয়েই মরদেহ কাঁধে নিয়ে কবরস্থানে পৌঁছান স্বজনরা। পরে সেখানেই দাফন সম্পন্ন করা হয়। প্রিয় মানুষটিকে শেষ বিদায় জানাতে সন্তানস্বজনদের এমন সংগ্রামের দৃশ্য উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে।

এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মন্তব্য করেন, একটি মরদেহ দাফন করতেও যখন গলা সমান পানি পেরিয়ে যেতে হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবারের দুর্ভোগ নয়, বরং এলাকার নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

৪ নম্বর ডাঙ্গিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী বলেন, “ফালডাঙ্গী কবরস্থানে যাওয়ার প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্যরা রাস্তাটি পাকা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। আমরাও জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকাবাসীকে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু আজও কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। এমন পরিস্থিতি সত্যিই দুঃখজনক।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শুধু দাফন কার্যক্রম নয়, সাধারণ মানুষের চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তারা দ্রুত রাস্তাটি উঁচু করে পাকা করার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।

মঈনুদ্দীন হিমেল

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More