
লবনাক্ততার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ৭ লক্ষ মানুষ

উপকুলীয় জেলা পিরোজপুর মিষ্টি পানির জেলা হলেও সাম্প্রতিক কালে জেলায় লবন পানি প্রবেশ করায় তার প্রভাব পড়েছে এখানকার কৃষি ও পরিবেশে। ফলে এখানকার কৃষি ক্ষেত্রে পড়েছে বিরুপ প্রভাব আর সুপেয় খাবার পানিতে দেখা দিয়েছে লবনাক্ততা। ফলে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে।
চারিদিকে নদী ঘেরা পিরোজপুরের সুমিষ্ট পানি আর বিভিন্ন কৃষি ও রকমারী গাছের উৎপাদন থাকলেও ২০০৭ সালের সিডরের জলোচ্ছাস এ এলাকার জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটায়। জেলার সর্বোত্র নোনা পানি ঢোকায় জলাবদ্ধতার কারনে বেশ কিছুদিন অবস্থান করে।
অন্যদিকে জোয়ার ভাটায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা দেয়ায় লবনাক্ত পানি সমুদ্র পর্যন্ত যেতে পারছেনা। ফলে এলকার নদ নদী ও খালবিলের পানি হয়ে পড়েছে লবনাক্ত। এদিকে দীর্ঘ ১৫ বছর লবন পানি অবস্থান করায় কৃষিক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে বিরুপ প্রতিক্রিয়া। যেমন মরছে গাছপালা তেমনি মারাত্মক উৎপাদন কমছে এ এলাকার অর্থকরী ফসল নারিকেল ও সুপারির। বাদ যাচ্ছে না ধান উৎপাদনেও।
এদিকে জেলার সর্বোত্র লবন পানি প্রবেশ করায় জেলার নদী নির্ভর পানির প্লান্টগুলোতে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির অভাব। অন্যদিকে টিউবয়েলের খাবার পানিতেও দেখা দিয়েছে লবনাক্ততা। তাতে এ জেলার মানুষ আমাশয়সহ বিভিন্ন পিড়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তাছাড়া নদী পুকুরের পানিতেও লবনাক্ততা থাকায় দেখা দিয়ে চর্মসহ বিভিন্ন রোগের। পানিতে লবনাক্ততা থাকায় কনক্রিটের নির্মান সামগ্রী আগের চেয়ে দ্রুততার সাথে লবনাক্ততায় আক্রান্ত হচ্ছে।
জেলার মাটিতে লবনাক্ততার প্রভাব থাকলেও চিন্তিত না হয়ে লবনাক্ত সহিষ্ণু ফসল চাষে উৎসাহ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। তাছাড়া লবনাক্ততা রোধে জলচ্ছাস থেকে রক্ষার জন্য বেরীবাঁধ নির্মানের গুরুত্ব আরোপ করেছেন তারা।
লবনাক্ততা প্রবেশের ফলে জেলার প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ রয়েছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। আর ২০ হাজার হেক্টর জমির ফসল রয়েছে ঝুঁকির মুখে।
যূথী/দীপ্ত সংবাদ





