ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৩২ জনের প্রাণহানি এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭.২ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের মাথায় কারাকাস থেকে পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় এবং আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। জোড়া এই ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও কিছুক্ষণ পর তা তুলে নেয়া হয়েছে।
কারাকাসজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। বহু ভবন ও ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। কারাকাসের পূর্বাঞ্চলের চাকাও–এর মেয়র গুস্তাভো দুকে জানিয়েছেন, সেখানে দুটি স্থাপনা ধসে প্রাথমিকভাবে অন্তত তিনজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের ভিড়ে হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সকল বিদ্যালয় এবং রেলসেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। ইউএসজিএস আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, ব্যাপক এই ধ্বংসযজ্ঞের ফলে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেল্লো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছেন, উদ্ধার ও সহায়তার কাজে রাষ্ট্রের সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং পুলিশ ও দমকল বাহিনী সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এই মাত্রার কম্পনকে তাদের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করেছেন। বিবিসির সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার সে সময় কারাকাসের একটি সাততলা ভবনে ছিলেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ ছিল যে মনে হচ্ছিল পুরো ভবনটি মাথার ওপর ভেঙে পড়বে। ৫৬ বছর বয়সী কোরো মার্তিনেজ জানান, কম্পনের সময় বিকট শব্দ হয় এবং ঘরের সবকিছু ছিটকে পড়তে থাকে। ১৯৬৭ সালের কারাকাস ভূমিকম্পের প্রত্যক্ষদর্শী মারিয়া রোমেরোর মতে, এবারের কম্পন অতীতের সেই ভয়াবহতার চেয়েও বেশি শক্তিশালী ছিল।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৮১২ সালে কারাকাসে এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ইউএসজিএস–এর মতে এবারের ভূমিকম্পটিও ওই মাত্রার ধ্বংসযজ্ঞের ইঙ্গিত দিচ্ছে।