কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ ।
সোমবার (১০ আগস্ট) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বলেছে, ভূমিকম্পটি একবিংশ শতাব্দীতে দেশটিতে রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
কালি, পেরেইরা, কিবদো ও মানিজালেসসহ পশ্চিম কলম্বিয়ার বিভিন্ন শহর ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। পার্শ্ববর্তী ইকুয়েডর ও পানামাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। রাজধানী বোগোতা থেকে এলাকাটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে।
মূল ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কলম্বিয়া‘য় অন্তত ২১টি পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, সেখানে অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও প্রায় ৩৮০টি ভবন।
কালি শহরের ৬৪ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক হোর্হে মোনকায়ো বলেন, ‘আমার পুরো বাড়ি কেঁপে উঠেছিল। এত শক্তিশালী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা আমার কখনো হয়নি।’
আরেক বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস ওসোরিও বলেন, একটি ভবন ধসে পড়ার শব্দ বোমা বিস্ফোরণের মতো মনে হয়েছিল।
এদিকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা‘ ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার। প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বলেছেন, মানুষের জীবন রক্ষা এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধার করাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
উল্লেখ্য, ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি কলম্বিয়া। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের কাছে অবস্থিত। ছোট মাত্রার ভূমিকম্প সেখানে প্রায়ই অনুভূত হয়। তবে ৬ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে বিরল।
এসএ