দেশের উত্তর–পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ–নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকটি পয়েন্টে নদীগুলোর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে, যার ফলে ওইসব এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র–যমুনা নদ–নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে আগামী ৩ থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় নদীর পানি বিপদসীমা স্পর্শ করতে পারে। এছাড়া তিস্তা, কুশিয়ারা ও সুরমা নদীসহ উত্তরাঞ্চল ও উত্তর–পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য নদ–নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধার নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের মধ্যে বান্দরবানের লামায় ১৩৫ মিলিমিটার ও সিলেটের জাফলংয়ে ৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্যদিকে, উজানে ভারতের মেঘালয়ে মাওকিরওয়াতে ৩৯০ মি.মি., মাউসিনরামে ২৬৪ মি.মি., পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে ১৬২ মি.মি. এবং অরুণাচলের পাসিঘাটে ১৫২ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চল, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং পার্শ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল ও মেঘালয়ে আগামী ৪ দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর তারা নজর রাখছে। নদী তীরবর্তী নিচু এলাকায় বসবাসকারী জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন্যা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ওয়েবসাইট (ffwc.gov.bd), মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (BWDB Flood App) অথবা ১০৯০ নম্বরে কল করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।