প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে বহুমুখী অর্জনের রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি জানান, এই সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
মুখপাত্র জানান, তিন পর্বের প্রথম বিদেশ সফরের শেষ ধাপে চীনের প্রিমিয়ার লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে গতকাল বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও লালগালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয় এবং মর্যাদাপূর্ণ দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্টহাউজে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। মাত্র ২৫ জনের একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি এই সফরে এসেছেন, যার মধ্যে ১১ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পদমর্যাদার। আজ সকালে বেইজিংয়ে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক সম্মেলনে চীনের শীর্ষ ৮০ জন ব্যবসায়ীর সামনে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা, আনোয়ারা ও মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, চীনে বাংলাদেশের প্রথম ইনভেস্টমেন্ট অফিস স্থাপন এবং মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের নতুন লাইসেন্স প্রদানের ঘোষণা দেন। এর আগে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী লি গুয়োইংয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলা, নদী খনন ও সেচ উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
এছাড়া আজ বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘পার্টি–টু–পার্টি‘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। মাহ্দী আমিন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক চীন সফরগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, পিতা–মাতার সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ‘ নীতিকে ভিত্তি ধরে সমতা ও ন্যায্যতার আলোকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। এই সফরে চীনের বেশ কয়েকটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী, যেমন– চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো–অপারেশন এজেন্সি এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
প্রেস কনফারেন্সে আসন্ন কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি আরও জানান, আজ চীনের স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) ঐতিহাসিক গ্রেট হলে চীনের প্রিমিয়ার লি কিয়াং–এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে এবং এরপর চীনের প্রিমিয়ার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করবেন। সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আগামীকাল শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা) একই স্থানে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং–এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাংলাদেশের উন্নয়ন–অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।