শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালালের মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নতুন কমিটি গঠন, দায়িত্ব পেলেন যারা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়ব্যয়ের স্বচ্ছতায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি ‘যৌক্তিক পদ্ধতি’ নির্ধারণের জন্য বলা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সিলেটের সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত শাহজালাল দরগাহর উন্নয়ন ও দানের টাকা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এক বৈঠক শেষে ১২ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেটের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, মাজারের মোতাওয়াল্লি পরিবারের দুজন সদস্য, মাজার মাদরাসা ও মসজিদের দুজন প্রতিনিধি। কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন জেলা প্রশাসক।

এ বিষয়ে একটি কাঠামো নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘দরগাহর উন্নয়ন, দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক কার্যক্রমে যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

আর্থিক হিসাবে স্বচ্ছতা আনতে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন সকলে। মাজার কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে একমত। সবার মতামতের ভিত্তিতে সবপক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য। আপাতত বিদ্যমান কমিটি নিয়ম অনুযায়ী দানের টাকা গণনা করবে এবং তা চলমান ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।’

জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পেছনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। সামনে এগিয়ে যেতে চাই। তবে কাজ করার দুটি পদ্ধতি আছে।

একটি হলোকাজ করা, আর আরেকটি হলো সবাইকে নিয়ে কাজ করা। যাতে সবার অংশগ্রহণ থাকে। কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়। আমরা সেরকম উদ্যোগ নিয়েছি। যাতে স্বচ্ছতাও আসবে, সবার অংশগ্রহণও থাকবে।’

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স বসানো হয়। মাজারের আয় ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার কথা বলে পিতলের তিনটি ডেগ সিলগালা করে প্রশাসন। এ নিয়ে মাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান।

আলোচনা সমালোচনার মধ্যে ২১ জুন রবিবার জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসককে হঠাৎ প্রত্যাহার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ জানিয়ে গত রবি ও সোমবার সিলেটে বিক্ষোভ করা হয়। এ রকম পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুর ২টায় হঠাৎ দরগাহে যান তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোয়ার। সেখানে প্রশাসনের বসানো ৪টি দানবাক্স, দরগার মহিলা এবাদতখানার একটি দানবাক্স এবং সিলগালা করা তিনটি পিতলের ডেগের টাকা গণনা করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে গণনা শেষ প্রশাসন জানায়, চারদিনে এসব দানবাক্স ও ডেকে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা সোনা ও ১০ সৌদি রিয়াল পাওয়া গেছে। পরে প্রশাসন দানের সমস্ত টাকা সোনালী ব্যাংকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের নামে খোলা একটি অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়। সেখানে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আরো ৫ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More