শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেপের জোড়া গোলে নক আউটে আইভরি কোস্ট, চমক দেখানো কুরাসাওয়ের বিদায়

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

নিকোলাস পেপের জোড়া গোলে বৃহস্পতিবার কুরাসাওকে ২০ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে আইভরি কোস্ট। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টে রূপকথার যাত্রার ইতি ঘটেছে ক্ষুদ্র ক্যারিবীয় দেশ কুরাসাওয়ের।

একসময় আর্সেনালের হয়ে খেলা পেপে বর্তমানে স্পেনের ভিয়ারিয়ালে খেলছেন। ফিলাডেলফিয়ায় ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই তিনি আইভরি কোস্টকে এগিয়ে দেন এবং এক ঘণ্টার কিছু পর নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন।

এই জয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে আইভরি কোস্ট। তারা প্রথম ম্যাচে ইকুযয়েডরকে ১০ গোলে হারিযয়েছিল, এরপর জার্মানির কাছে ২১ গোলে হেরেছিল।

একই সময়ে জার্মানী নিউ জার্সিতে ইকুয়েডরের কাছে ২১ গোলে হেরে যাওয়ায় মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফলের ভিত্তিতে জার্মানির পেছনে গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে ওঠে আইভরি কোস্ট।

২০২৪ সালের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা এর আগে তিনবার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। ঐতিহাসিক এই সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে আগামী মঙ্গলবার ডালাসে শেষ ৩২এর ম্যাচ খেলবে তারা।

সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘আই’এর রানার্সআপ। অর্থাৎ সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পাওে ফ্রান্স অথবা নরওয়ে। পেপেসহ আইভরি কোস্টের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের জন্ম ফ্রান্সে।

মাত্র এক লাখ ৬০ হাজার জনসংখ্যার কুরাসাও বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেই ইতিহাস গড়েছিল। বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠা ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশটি অবশ্য কোনো ম্যাচ না জিতে গ্রুপের তলানিতে থেকে বিদায় নিল।

কোচ ডিক এ্যাডবোকাটের দল প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক নৈপুণ্য দেখিয়ে ইকুয়েডরের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে প্রশংসা কুড়ায়।

আজ সেই পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি করতে না পারলেও লিনকন ফিনান্সিয়াল ফিল্ডের ৬৮ হাজার ৩২৪ দর্শকের পূর্ণ গ্যালারির সামনে তারা লড়াই করে সমর্থকদের গর্বিত করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের ম্যাচে এত দর্শকের উপস্থিতিই প্রমাণ করে, বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে কুরাসাও কতটা সাড়া ফেলেছে।

স্টেডিয়ামের চারদিকে কমলা রঙের আইভরি কোস্টের জার্সি পরা সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শুরুতেই গোল আসায় তাদের উল্লাসও শুরু হয়ে যায়।

টুর্নামেন্টের অন্যতম উদীয়মান প্রতিভা ইয়ান ডায়মন্ড প্রথম গোলের কারিগর ছিলেন। আরবি লিপজিগের এই উইঙ্গার ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বল পেছনে বাড়িয়ে দেন, আর পেপে সহজেই সেটি জালে পাঠান।

কুরাসাওয়ের শুরুর একাদশের ১০ জন খেলোয়াড়েরই জন্ম নেদারল্যান্ডসে। তাদের অনেকেই বিভিন্ন বয়সভিত্তিক এমনকি সিনিয়র পর্যায়েও ডাচ জাতীয় দলের কমলা জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন। যে কারনে তারা মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ ছিল না। জুরিয়েন গারির দূরপাল্লার শটে অল্পের জন্য পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে লিনড্রো বাকুনা বক্সে ঢুকে শট নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

বিরতির পরপরই শেরেল ফ্লোরানাসের একটি শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। তবে ৬৪তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করার পর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি কুরাসাও। ইব্রাহিম সানগারে দারুণ এক থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন পেপের উদ্দেশ্যে। বক্সের ভেতরে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পেপে গোলরক্ষক এলয় রুমকে পরাস্ত করেন।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More