মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে শুধু একটি ম্যাচ শেষ হয়নি, শেষ হয়েছে মেক্সিকান ফুটবলের এক গৌরবময় অধ্যায়েরও! বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩–০ গোলে হারিয়ে শতভাগ সাফল্য নিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলো কেড়েছেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া।
চল্লিশ বছর বয়সী এই গোলরক্ষককে ম্যাচের শেষ ১২ মিনিটের জন্য মাঠে নামান কোচ হাভিয়ের আগিরে। মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আজতেকা স্টেডিয়ামজুড়ে ধ্বনিত হয় ওচোয়ার নাম। গ্যালারিভর্তি দর্শক দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে বরণ করে নেন দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকাকে। যে গোলপোস্ট তাকে দিয়েছে কিংবদন্তির সম্মান, সেই গোলপোস্টে চুমু খেয়ে ইতি টানলেন রঙিন ক্যারিয়ারের।
বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসরে অংশ নেওয়া ওচোয়ার জন্য মুহূর্তটি ছিল বিশেষ। ২০০৪ সালে এই আজতেকা স্টেডিয়ামেই ক্লাব আমেরিকার জার্সিতে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল তার। দুই দশকের বেশি সময় পর একই মাঠে জাতীয় দলের জার্সিতে হয়তো শেষবারের মতো খেললেন তিনি।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ওচোয়া বলেন, ‘আমার প্রথম ম্যাচ ছিল আজতেকায়, শেষ ম্যাচও আজতেকায়। আমার ক্যারিয়ারের জন্য এর চেয়ে সুন্দর সমাপ্তি আর হতে পারে না। সবাইকে ধন্যবাদ।’
ম্যাচে মেক্সিকোর জয় নিশ্চিত করেন মাতেও চাভেস, হুলিয়ান কিনিওনেস ও আলভারো ফিদালগো। দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গোল করে চেকদের বিদায় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। যদিও ম্যাচজুড়ে মেক্সিকো খুব বেশি আক্রমণাত্মক ছিল না, তবু সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রাপ্য জয়ই তুলে নেয় তারা।
তরুণ গোলদাতা চাভেস ম্যাচ শেষে বলেন, ‘ওচোয়া আমাদের সবার জন্য অনুকরণীয়। তিনি সবার আগে অনুশীলনে আসেন, সবার শেষে মাঠ ছাড়েন। তার মতো পেশাদার ফুটবলার খুব কমই দেখা যায়। এমন বিদায় তিনি প্রাপ্য ছিলেন।’
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে মেক্সিকো। গোলও হজম করেনি একটিও। স্বাগতিকদের এমন নিখুঁত পারফরম্যান্সে সমর্থকদের স্বপ্ন আরও বড় হচ্ছে। অনেকেই এখন ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন।
তবে বুধবার রাতের সবচেয়ে স্মরণীয় দৃশ্য ছিল শেষ বাঁশির পরের মুহূর্ত। সতীর্থদের সঙ্গে উদ্যাপন শেষে আজতেকার গোলপোস্টে চুমু খান ওচোয়া! দেশের জার্সিতে ১১৪ ম্যাচ খেলে বিদায় নিলেন তিনি। সূত্র: বার্তা ২৪