পরিবর্তনশীল ও জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে চীন ও বাংলাদেশ।
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত ‘শাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক দ্বিতীয় চীন-বাংলাদেশ গোলটেবিল বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূতের পক্ষে পঠিত লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাও ফেং।
বক্তব্যে তিনি জানান, চীন ও বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্ব দু’দেশের সার্বিক কৌশলগত অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং নতুন যুগে ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে এই যৌথ সংলাপ অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম, সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. লি খাইশেং এবং ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
লি শাও ফেং আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা সংকট ও উন্নয়নের ভারসাম্যহীনতা যখন প্রকট হয়ে উঠছে, তখন গ্লোবাল সাউথের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে চীন ও বাংলাদেশের একত্রে কাজ করা জরুরি। একটি সুশৃঙ্খল ও বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দু’দেশের কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন রূপকল্প বাস্তবায়নে বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সামুদ্রিক সম্পদকে সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের বিষয়ে চীন ও বাংলাদেশ একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।’
এ সময় তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘দেশ হলো তার জনগণ, আর জনগণই হলো দেশ।’ চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও চীনা সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাধারণ মানুষ। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি সুশাসনের সুফল সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সুরক্ষায় কারিগরি সহায়তা বিনিময়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
তথ্য ও ছবি: সিএমজি বাংলা