যেখানে ৯০০ টাকা দিলেই পাবেন সুদর্শন পুরুষকে জড়িয়ে ধরার সুযোগ

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

মানসিক চাপ, একাকিত্ব কিংবা সারাদিনের ক্লান্তি এসব থেকে কয়েক মিনিটের জন্য মুক্তি পেতে কেউ গান শোনেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। অনেকে সঙ্গীকে জড়িয়ে ধরে শান্তি পান। যেন এক মুহূর্তেই সারাদিনের সব মানসিক চাপ, স্ট্রেস দূর হয়ে যায়।

কিন্তু সম্প্রতি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অদ্ভুত ও আলোচিত প্রবণতা সামনে এসেছে, যেখানে তরুণীরা অর্থের বিনিময়ে পেশিবহুল অথচ শান্ত ও যত্নশীল পুরুষের কাছ থেকে কয়েক মিনিটের আলিঙ্গন নিচ্ছেন। চীনের সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের পুরুষদের বলা হচ্ছে ‘ম্যান মাম’।

ম্যান মাম’ শব্দটির অর্থ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। আগে এটি মূলত জিমে যাওয়া পেশিবহুল পুরুষদের বোঝাতে ব্যবহৃত হলেও, বর্তমানে এর অর্থ বদলে গেছে।

এখন এর দ্বারা এমন পুরুষদের বোঝানো হয়, যাদের শরীর শক্তপোক্ত হলেও আচরণে থাকে চরম কোমলতা, ধৈর্য ও যত্নশীলতাঅর্থাৎ শক্ত চেহারার আড়ালে একজন শান্ত ও সান্ত্বনা দিতে সক্ষম পুরুষ।

এই প্রবণতার সূত্রপাত হয় এক তরুণীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। থিসিসের চাপ সামলাতে গিয়ে তিনি একজন ভদ্র ও পেশিবহুল পুরুষের কাছ থেকে পাঁচ মিনিটের আলিঙ্গন পেতে চান বলে জানান, যা তাঁকে অতীতে নিরাপদ অনুভূতি দিয়েছিল।

পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’এর তথ্যমতে, সেখানে এক লাখের বেশি মন্তব্য জমা পড়ে। এরপর চীনে একই ধরনের সঙ্গী খোঁজার পোস্টের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

এটি কোনো আনুষ্ঠানিক বা নিয়ন্ত্রিত পেশা নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক একটি অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা। সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেখে আগ্রহী পুরুষদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলা হয়। ভদ্রতা, ধৈর্য, শারীরিক গঠন ও স্বভাব বিবেচনা করে কাউকে বেছে নেওয়া হয়।

নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোস্টেশন বা শপিং সেন্টারের মতো প্রকাশ্য স্থানে এই সাক্ষাৎগুলো হয়, যা কেবল আলিঙ্গনেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়। এই সেবায় পাঁচ মিনিটের আলিঙ্গনের জন্য সাধারণত ২০ থেকে ৫০ ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০০ টাকার কাছাকাছি) নেওয়া হয়।

এই সেবার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পুরুষও তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ অন্যের মুখে স্বস্তি এনে দেওয়ার মধ্যে নিজেদের আত্মমূল্য খুঁজে পান।

অনেক নারী আবার চেহারা নিয়ে উদ্বেগ বা কাজের চাপ নিয়ে কথা বলতে চান। সেবা প্রদানকারী একজন ব্যক্তি জানান, তিনি এই সেবার মাধ্যমে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছেন এবং একাধিক আলিঙ্গন থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আয় করেছেন।

টাকা দিয়ে আলিঙ্গন কেনার এই প্রবণতার নেপথ্যে রয়েছে শহুরে জীবনের তীব্র একাকিত্ব, ব্যস্ত কর্মজীবন, পড়াশোনার চাপ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন।

পরিচিত গণ্ডির বাইরে অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অল্প সময়ের এই সান্ত্বনা অনেককে মানসিক স্বস্তি দেয়। তবে এটিকে কোনোভাবেই মানসিক চিকিৎসা বা থেরাপি হিসেবে দেখা চলে না।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More