খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, নেত্রকোনায় যেহেতু আগাম বন্যায় বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে; তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা তিন মাসের পরিবর্তে আরও বাড়ানো হবে। আর ধান–চাল সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত থাকবে। কৃষক যত ধান দিতে দিতে পারবে, সরকার তত পরিমাণ ধান কিনবে। প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত ধান–চাল সংগ্রহ লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও বেশি কেনা হবে।
রবিবার (৩ মে) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা পাবলিক হলে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত বোরো ধান–চাল সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি ঢল ও বন্যাজনিত কারণে নেত্রকোনায় বোরো ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে তা প্রধানন্ত্রীকে জানানো হবে এবং তিনি যাতে নেত্রকোনায় আসেন, সে কথাও বলা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় এবং আর্দ্রতার নামে ধান ক্রয় বন্ধ না থাকে সে দিকে জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে খেয়াল রাখতে হবে।
এরপর প্রতিমন্ত্রী সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান–চাল ক্রয় কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।
খাদ্য মন্ত্রাণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সদর আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক, জামায়াতের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক ও জিপি মাহফুজুল হক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান খান, সম্পাদক তাজউদ্দিন ফারাস সেন্টু, বিএনপি নেতা এস এম শফিকুল কাদের সুজা, বজলুর রহমান পাঠান, এস এম মনিরুজ্জামান দুদু, জেলা কৃষকদলের সভাপতি সালাউদ্দিন খান মিলকী, পৌর বিএনপির সভাপতি মেহেরুল আলম রাজু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরীসহ খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা, চালকল মালিক সমিতির নেতা ও কৃষকরা।
এই বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ২০ হাজার ৪১৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে এক হাজার ৪৪০ টাকা মণ দরে। এই ধান ক্রয় ৩ মে শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোহেতাছেমুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে সরকারিভাবে জেলায় মোট ২০ হাজার ৪১৫ মেট্রিক টন ধান এবং ৫৫ হাজার ৫৮৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে। প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা এবং চাল ৪৯ টাকা কেজি দরে। এসব ধান–চাল জেলার মোট ১৩টি খাদ্যগুদামে সংগ্রহ করা হবে।
ফয়সাল চৌধুরী/এজে/দীপ্ত সংবাদ