প্রচণ্ড গরমের মধ্যে টানা ৭২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় কিশোরগঞ্জ জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
গত সোমবার (১৪ এপ্রিল) পয়লা বৈশাখের রাতে হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে পল্লী বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যায় এবং অনেক স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে। এর ফলে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে।
বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত পচনশীল খাদ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। এতে করে আধুনিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাভুক্ত সদর, হোসেনপুর, পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী, করিমগঞ্জ, তাড়াইল, নিকলী, বাজিতপুর, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার গ্রাহকেরা এই সংকটে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, দিনের বেলা তীব্র গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে, আর রাতে অন্ধকারের কারণে চুরির আশঙ্কা বাড়ছে। ঝড়ের অজুহাতে এত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা তমেনে নিতে পারছেন না গ্রাহকেরা।
সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের ভাস্করখিলা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় খাবার পানি সংকট তীব্র হয়েছে। কোরবানির ঈদের জন্য লালন–পালন করা গবাদিপশুর দেখভাল করতেও তারা সমস্যায় পড়েছেন।
এদিকে, একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় তার সন্তানের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
তাড়াইল উপজেলায় বিদ্যুৎ সংকটে ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপগুলোতে লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
অটোরিকশাচালকেরা যানবাহন চার্জ দিতে না পারায় আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ইটনা থানার এলংজুরী ইউনিয়নের বড়হাত কবিলা গ্রামের মো. বাইজিদ ভূইয়া বলেন, আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ মাঝেমধ্যে আসে। ২৪ ঘন্টার মাঝে বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। আর একটু বাতাস ছাড়লেই দুই দিনের জন্য চলে যায়,বাতাস থেমে গেলেও বিদ্যুৎ আসে না। এ সময় হাওরের মানুষ ফ্রীজের পচনশীল খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী জানান, ঝড়ে লাইনের ওপর গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।হাওরে লাইনের তার ছিড়ে গেলে খুজে পেতে অনেকটা সময় লাগে। তবে জন দুর্ভোগ যেন না হয় সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি।
মশিউর নাদিম