সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবারও ব্যর্থ ব্রাজিলের হেক্সা মিশন, ফেনীতে সমর্থকদের চোখে অশ্রু

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

নরওয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত হারে বিশ্বমঞ্চ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে ফেনী। বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা’ ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন এভাবে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে, তা যেন ভাবতেও পারেননি স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা। খেলা শেষ হওয়ার শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ফেনী পুরাতন কারাগারের সামনের মাঠে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা, যা পরক্ষণেই রূপ নেয় কান্নার রোলে। প্রিয় দলের এমন বিদায়ে শত শত ব্রাজিল ভক্তের চোখে এখন কেবলই অশ্রুর বন্যা।

রবিবার (৫ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত এই ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচটি দেখার জন্য ফেনী শহরের পুরাতন কারাগারের সামনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে বিশাল জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই হলুদসবুজ জার্সি গায়ে, দলীয় পতাকা ও বাঁশি হাতে উৎসবমুখর পরিবেশে জড়ো হতে থাকেন হাজারো ভক্ত। পুরো এলাকা রূপ নিয়েছিল এক টুকরো ব্রাজিলে। সবার মনেই ছিল দৃঢ় বিশ্বাস—এবার অন্তত ধরা দেবে হেক্সা মিশন।

তবে মাঠের সমীকরণ মেলেনি। নরওয়ের জমাট রক্ষণভাগ আর গতিময় কাউন্টার অ্যাটাকের সামনে একের পর এক আক্রমণ করেও গোল করতে ব্যর্থ হয় সেলেসাওরা। উল্টো ম্যাচের শেষভাগে গোল হজম করে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

খেলা শেষে পুরাতন কারাগারের জায়ান্ট স্ক্রিনের সামনে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। প্রিয় দলের এমন বিদায়ে মাঠের মধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক সমর্থক। অনেককে আবার স্তব্ধ হয়ে মাটির দিকে তাকিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা খোঁজার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু কারো মুখেই কোনো ভাষা ছিল না।

খেলা দেখতে আসা শহরের সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা ও দীর্ঘদিনের ব্রাজিল সমর্থক মো. সাহেদ চোখ মুছতে মুছতে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম এবার আমাদের হেক্সা মিশন পূরণ হবেই। নরওয়ের সাথে এভাবে হেরে বিদায় নিতে হবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। বুকটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

আরেক সমর্থক নাজমুল হক বলেন, ৪ বছর ধরে এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করি। জায়ান্ট স্ক্রিনে এত মানুষ একসাথে আনন্দ করতে এসেছিলাম, কিন্তু শেষটা যে এত কষ্টের হবে তা ভাবিনি।

খেলার প্রথমার্ধেও যে পুরাতন কারাগার প্রাঙ্গণ ছিল উল্লাস আর স্লোগানে মুখরিত, ম্যাচ শেষে তা মুহূর্তেই পরিণত হয় এক বিষণ্ণ জনপদে। বড় পর্দার আলো নিভে যাওয়ার পর অত্যন্ত নিঃশব্দে ও ভগ্নহৃদয়ে মাঠ ছাড়েন ভক্তরা। হেক্সার স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার এই বেদনা দীর্ঘকাল তাড়িয়ে বেড়াবে ফেনীর ফুটবল অনুরাগীদের।

আবদুল্লাহ আলমামুন/এজে/দীপ্ত সংবাদ

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More