
অ্যাসিস্টের পর মেসির গোল, চ্যাম্পিয়নস কাপের টিকিট পেল মায়ামি

লিওনেল মেসির জাদুতে পিছিয়ে পড়েও দারুণ জয় তুলে নিয়েছে ইন্টার মায়ামি। একটি হার ও ড্রয়ের পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে ইন্টার মায়ামির সামনে জয়ে বিকল্প ছিল না। সেই ম্যাচে জাদুর ঝলক দেখালেন লিওনেল মেসি। চোখ ধাঁধানো এক অ্যাসিস্টের পর নিজেও করলেন গোল।
রবিবার (১ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোয় নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনকে ২–১ গোলে হারিয়েছে দলটি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০২৭ কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করেছে মায়ামি।
নিউ ইংল্যান্ডের মাঠে পিছিয়ে পড়ার পর দুটি গোলে জবাব দেয় মায়ামি। দুটোতেই মেসির অবদান। ২–১ গোলে জিতেছে ফ্লোরিডা ক্লাব। অথচ প্রথমার্ধে দাপট ছিল স্বাগতিকদের। ছয়টি শট তারা লক্ষ্যে রেখেছিল। কর্নার কিক পেয়েছিল পাঁচটি এবং এক্সপেক্টেড গোল ছিল ০.৭৫। কিন্তু হাফটাইমে খেলা শেষ হয় গোলশূন্য স্কোরে।
৫৩ মিনিটে ড্যানিয়েল গাজদাগের গোলের এগিয়ে যায় নিউ ইংল্যান্ড। এর ১৬ মিনিট পর এসেছে মায়ামির প্রথম গোল। ৬৯ মিনিটে সতীর্থকে পাস দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। তারপর সতীর্থের বাতাসে ভাসানো মাপা ক্রসে হেড করে ডানপাশে বল বাড়ান তিনি। জার্মান বারতারামের জন্য জালের দেখা পেতে কোনো সমস্যাই হয়নি।
দুই ম্যাচের জয়খরা কাটাতে এবার মেসি নিজেই করেন গোল। ৮৩ মিনিটে তিন ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জ সামলাতে গিয়ে মানসিক দৃঢ়তা দেখান তিনি। বক্সের বাইরে দুই ডিফেন্ডার তার গায়ে গা লাগিয়ে বল ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেছিলেন, আরেকজন তার সামনে ছিলেন। মেসি বল ড্রিবল করে বক্সের সামনে সতীর্থকে পাস দেন, যিনি কোনো রকমে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ছোট পাসে মেসির দিকে বল পাঠান। তারপর বক্সে ঢুকে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী ফরোয়ার্ড বাঁ পায়ের নিচু শটে গোলকিপার টার্নারকে পরাস্ত করেন।
এটি ছিল মেসির ক্যারিয়ারের ৯৩৭তম গোল এবং ওপেন প্লে থেকে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড ৮২২ এ নিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর ইয়ান ফ্রের আত্মঘাতী গোলে ড্র করেই ফেলেছিল নিউ ইংল্যান্ড। কিন্তু অফসাইডে গোলটি বাতিল হওয়ার কারণে রক্ষা পায় মায়ামি।
এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে নিউ ইংল্যান্ডকে টপকে দ্বিতীয় স্থান দখল করে মায়ামি। এবং মেজর লিগ সকারের রেগুলার সিজনের এক ম্যাচ হাতে রেখে ২০২৭ সালের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে জায়গা নিশ্চিত করে।
৩৩ ম্যাচে ৫৯ পয়েন্ট মায়ামির। আগামী ৭ নভেম্বর শার্লোট এফসির বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলে এমএলএসের চলতি মৌসুম শেষ করবে হেরনরা।
মায়ামি কোচ ক্রিশ্চিয়ান গঞ্জালেজ বলেন, ‘এটা আমাদের খেলোয়াড় ও ক্লাবের জন্য আনন্দের ব্যাপার যে, আমরাও অবদান রাখার পক্ষে আছি। আমরা এমন একটি ক্লাবে আছি যারা ক্রমাগত উন্নতি করছে, আমাদের এমন খেলোয়াড় আছে যারা নিবেদিতপ্রাণ। আমাদের জেতা দরকার ছিল এভং আমরা কেমন দল হতে চাই, সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম আমরা।’








