
মেসির ১০ নম্বর জার্সির উত্তরসূরি হিসেবে যাকে বেছে নিলেন রোমেরো

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের পর আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসির আইকনিক ১০ নম্বর জার্সির উত্তরসূরি কে হবে তা নিয়ে জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। মেসির জাতীয় দলের সতীর্থরাও এ বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। মেসির বিদায়ে জাতীয় দলের আর্মব্যান্ড উঠেছে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হাতে। মেসির ১০ নম্বর জার্সির উত্তরসূরী হিসেবে আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়কের পছন্দ অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজ।
মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সির রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। আর্জেন্টিনার সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের মধ্যে দিয়েগো ম্যারাডোনা ও মারিও কেম্পেসও এই জার্সি পরেছেন। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসির বিদায়ের পর রোমেরোর বিশ্বাস, এই দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার জন্য আলভারেজই হতে পারেন উপযুক্ত খেলোয়াড়।
সাক্ষাতকার ভিত্তিক টকশো লস এদুলের সাথে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে প্রথম কথা বলেছেন টটেনহ্যামের এই ডিফেন্ডার। সেখানে তিনি স্বীকার করেন, মেসির জায়গা পূরণ করতে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার চেয়ে জাতীয় দল থেকে ১০ নম্বর জার্সিটি অবসরে পাঠানোই তাঁর বেশি পছন্দ।
রোমেরো বলেন, “সত্যি বলতে, আমি জার্সিটি তুলে রাখতাম, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে (এএফএ) একটি ম্যুরাল তৈরি করতাম, ব্যস। তাহলে কাউকে এই দায়িত্ব নিতে হতো না। কিন্তু সেটি করা সম্ভব নয়।”
তবে জার্সিটি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকলে কাকে দেওয়া উচিত– এমন প্রশ্নে বিশ্বকাপজয়ী রোমেরোর উত্তর ছিল স্পষ্ট, “আমি এটি জুলিকে (আলভারেজ) দিতাম।”
রোমেরো আরও বলেন, “এরপর অবশ্য সবারই নিজস্ব পছন্দ থাকবে। আমি তার মধ্যে বিনয়, পরিবারকেন্দ্রিক মানসিকতা ও ভালো মানুষের বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই। তার যোগ্যতাও রয়েছে। আমার মনে হয়, সেই–ই উপযুক্ত।”
২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন আলভারেজ। এরপরও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। মেসির দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ব্যবহৃত জার্সির উত্তরসূরি হওয়ার ক্ষেত্রে আলভারেজের বিনয়ী ব্যক্তিত্ব ও ফুটবলীয় দক্ষতা তাঁকে শক্ত দাবিদার করে তুলেছে বলে মনে করেন রোমেরো।
জাতীয় দলে আরও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে, যারা এই দায়িত্ব নিতে পারেন বলেও স্বীকার করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। এমনকি আলভারেজকে নিজের শহর কালচিনে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও মজা করেন তিনি। আগে থেকেই আলভারেজকে এ ধারণা গ্রহণে উৎসাহিত করেছিলেন বলেও জানান রোমেরো।
স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে ছড়ানো ষড়যন্ত্রতত্ত্বও উড়িয়ে দিয়েছেন রোমেরো। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অপ্রয়োজনীয় জল্পনা–কল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “ফাইনালে কিছুই ঘটেনি।” স্পেন ভালো খেলেছিল। বিশ্বকাপে খেলা সবসময়ই কঠিন। তার উপর এবার বেশী ম্যাচ খেলার কারনে টুর্নামেন্টজুড়ে শারীরিকভাবে আর্জেন্টিনা কিছুটা ভুগেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মেসিকে নিয়ে আবেগঘন কথাও বলেন রোমেরো। আর্জেন্টিনা দলে সাবেক অধিনায়ককে ছাড়া এখনো সবকিছু অদ্ভুত লাগে বলে স্বীকার করেন তিনি।
রোমেরো বলেন, “তার ক্যারিয়ার এমন ছিল– এখনো তেমনই, যা কেউ কখনো ছুঁতে পারবে না।”
এই সেন্টার–ব্যাক আরও এক ধাপ এগিয়ে মেসিকে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে আখ্যা দেন। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীতা চালিয়ে যাওয়ার প্রতি মেসির আগ্রহেরও প্রশংসা করেন তিনি।
আধুনিক সময়ের ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রোমেরো। তাঁর মতে, ফুটবলের বড় পুরস্কারগুলোর লড়াইয়ে কখনো কখনো বিপণন কৌশল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে মজা করে তিনি বলেন, “এখন পুরস্কারটা অনেকটা বিপণন কৌশলের অংশ হয়ে গেছে। সম্ভবত যার ইনস্টাগ্রামে অনুসারী সবচেয়ে বেশি, তাকেই দেওয়া হবে।”






এই সংবাদে মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ আছে।