অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে উদ্বোধনী জুটি নিয়ে চিন্তায় বাংলাদেশ

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে উদ্বোধনী জুটির দীর্ঘদিনের সমস্যা নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে বাংলাদেশকে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সাফল্য পেতে হলে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটিতে পারফরমেন্স করা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে পরিসংখ্যান বলছে, দলের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হচ্ছে এই উদ্বোধনী জুটি। গত চার বছরে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কোনো ম্যাচেই বাংলাদেশের কোনো ওপেনার সেঞ্চুরি করতে পারেননি।

অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ দলে ওপেনার হিসেবে আছেন সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচে এরা কেউই খেলেননি।

টেস্ট ফরম্যাটে মাত্র একটি টেস্ট খেলেছেন তানজিদ। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর টেস্ট দলে ফিরেছেন সৌম্য। পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা না থাকলেও দলে রাখা হয়েছে সাদমানকে।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে উদ্বোধনী জুটিতে ধারাবাহিক হতে না পারা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টেস্টে বাংলাদেশি ওপেনার হিসেবে সর্বশেষ সেঞ্চুরি করেছেন জাকির হাসান। সেটি প্রায় চার বছর আগে ভারতের বিপক্ষে।

এরপর নিজের শেষ ১৩টি টেস্ট ইনিংসে একটিও হাফসেঞ্চুরি পাননি জাকির। ফলে দল থেকে বাদ পড়েন তিনি।

টেস্ট ক্রিকেট থেকে তামিম ইকবাল অবসর নেওয়ার পর সাতজন ভিন্ন ভিন্ন ওপেনারকে পরখ করেছে বাংলাদেশ।

এসময়ে খেলা ২১টি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে কোনো সেঞ্চুরি করতে পারেননি ওপেনাররা। মাত্র ১০টি হাফসেঞ্চুরি করেছেন তারা। যা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।

২০২৩ সালের শুরু থেকে ইনিংসে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটির গড় সংগ্রহ ২০.১৭ রান। যা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন মাহমুদুল হাসান। সাম্প্রতিক বাজে ফর্মেও কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে রাখা হয়নি তাকে। টেস্টে সর্বশেষ ছয় ইনিংসে চারবার এক অঙ্কের ঘরে আউট হন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে ওপেনারদের নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে একমত পোষণ করলেও ক্রিকেটে ওপেনারদের ভূমিকা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং বলে জানান বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

সাংবাদিকদের শান্ত বলেছিলেন, ‘ওপেনারদের নিয়ে অনেক কথা হয় কারণ তারা ধারাবাহিক পারফরমেন্স দেখাতে পারে না। কিন্তু ইনিংস শুরু করাটা খুবই কঠিন। কখনও কখনও দিনের খেলার শেষ কয়েক ওভারে ব্যাট করতে হয়, আবার কখনও বা ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে উইকেটে খেলতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতিসুইং ও বাউন্সের সমন্বয়ে আধুনিক পেস বোলিং ওপেনারদের কাজকে আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং করে দিয়েছে। তাই দলের জন্য একটি ভালো ভিত্তি গড়ে দিতে হলে বাংলাদেশের ওপেনারদের এই কঠিন পরিস্থিতিগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে।’

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More