শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬
শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬

অতিবৃষ্টিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আজ শনিবার সন্ধ্যা থেকে অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসাথে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানান, দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরী  এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘন্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী  থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে ময়মনসিংহ ও সিলেট মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি জানান।

এদিকে আবহাওয়া নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান বাসস’কে জানান, আজ সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রাক-মৌসুমী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’ ধেয়ে আসছে। আজ থেকে শুরু হয়ে ৭ মে পর্যন্ত এই শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় কার্যকর থাকতে পারে বলে তিনি জানান। এই সময় দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আজ থেকেই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা গেছে এবং সকালে কিছু এলাকায় বৃষ্টিও হয়েছে। আজ রাত থেকে বৃষ্টিপাত আরও সক্রিয় হতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে একটি অনুকূল আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে, যা আগামী প্রায় ৭ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ের মধ্যে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

এই আবহাওয়াবিদ জানান, উজানের এলাকাগুলো, যেমন মেঘালয়, আসাম এবং চেরাপুঞ্জি অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়কালে এসব এলাকায় প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা রয়েছে, যা বাংলাদেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে এই বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে।

তিনি জানান, প্রথমদিকে বৃষ্টিপাত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে এটি ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২৯ এপ্রিল  থেকে ৫ মে পর্যন্ত সময়ে দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় নিয়মিত ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। যদিও মাঝেমধ্যে এক-দুই দিনের জন্য বিরতি দেখা যেতে পারে, তবুও এই সময়ে বৃষ্টিপাতের আধিক্য থাকার সম্ভাবনা বেশি।

ঝড়ের বিষয়ে তিনি বলেন, এই সময়ে অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়া বা ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকতে পারে। কিছু কিছু স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে এর চেয়ে কম বা বেশি গতিবেগও হতে পারে।

এই বৃষ্টিপাতের কারণে হাওর অঞ্চলে চলমান ধান কাটার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টানা বৃষ্টি হলে কৃষকরা সময়মতো ধান কাটতে পারবেন না, ফলে ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি জানান।

আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রার আধিক্য ধীরে ধীরে হ্্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ বা ২৯  এপ্রিল থেকে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হয়ে উঠতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪৫ থেকে ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির যে গুজব ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে মশিউর রহমান বলেন, বাস্তবে এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির কারণে তাপমাত্রা কমে আসার সম্ভাবনাই বেশি।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More