লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটি হাতে লেখা চিঠি রেখে গেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ শেষে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হওয়ায় এই চিঠি পরে ভেন্যু কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং ইরান ফুটবল ফেডারেশন সেটির ছবি প্রকাশ করে।
সেখানে তারা ভক্তদের এমন অবিচল সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ–এর বরাতে জানা গেছে, নিজেদের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচটি শেষে লস অ্যাঞ্জেলেসের ড্রেসিংরুমে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে একটি হাতে লেখা চিঠি রেখে যায় দলটি। সেই চিঠিতে লেখা ছিল, ‘হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে শুরু করে আজকের সভ্য ইরান—ইরানের এই আত্মিক শক্তি সবসময় জীবিত এবং অবিচল থাকবে।’
হাতে লেখা সেই চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা অত্যন্ত গর্বের সাথে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছিলাম, সম্মানের সঙ্গে লড়াই করেছি এবং মাথা উঁচু করেই বিদায় নিচ্ছি। লস অ্যাঞ্জেলেস, তোমাদের এই আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ। আর ধন্যবাদ সেইসব ইরানিদের, যারা এই ১৮০ মিনিটের প্রতিটি সেকেন্ডে নিজেদের উজাড় করে দিয়ে গ্যালারি থেকে আমাদের সমর্থন জুগিয়েছেন, কণ্ঠ দিয়েছেন আর আমাদের জন্য প্রার্থনা করেছেন। পৃথিবীর সব জাতির মধ্যে শান্তি, শ্রদ্ধা আর বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।’
বেলজিয়ামের বিপক্ষে এই ড্রয়ের মূল কারিগর ছিলেন দলটির গোলকিপার আলিরেজা বেইরানভান্দ। পুরো ম্যাচজুড়ে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে ইউরোপের পরাশক্তিদের আটকে রাখেন তিনি। ৩৩ বছর বয়সী এই গোলকিপার ম্যাচে মোট ৭টি সেভ করেন, যার মধ্যে ৪টি ছিল ডাইভিং সেভ। পরিসংখ্যান বলছে, নিশ্চিত গোল হতে যাওয়া অন্তত ১.৭০টি শট তিনি একাই রুখে দিয়েছেন।
বেইরানভান্দের এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের কারণে ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে তার হাতে। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ডিফেন্ডার নাথান এনগয় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে শেষ সময়টুকু ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয়েছে বেলজিয়ামকে। আর সেই সুযোগেই তাদের বিপক্ষে মহামূল্যবান এই পয়েন্টটি ছিনিয়ে নেয় ইরান।
প্রথম দুই ম্যাচ থেকে দুই ড্র নিয়ে ইরান এখন গ্রুপ ‘জি‘-র টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যা তাদের শেষ বত্রিশে যাওয়ার দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই টিকিয়ে রাখল।