এক মাসেরও কম সময় বাকি। মেক্সিকোতে শুরু হতে চলেছে আকাঙ্ক্ষিত ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬। আয়োজন হবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতেও। ইতোমধ্যে চীনে তৈরি ফুটবল, পতাকা, সমর্থকদের জার্সি থেকে শুরু করে পানীয়পাত্রসহ বিভিন্ন পণ্য আয়োজক দেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য বাজারে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্ট হবে প্রথম বিশ্বকাপ, যেখানে ৪৮টি দল অংশ নেবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
গত এপ্রিল মাসে শানতোং প্রদেশের ছিংতাও-ভিত্তিক পতাকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কারখানায় শ্রমিকরা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জাতীয় পতাকা সেলাই ও সংযোজনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শিয়াও চাংআই বলেন, ‘১ এপ্রিল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচের পর ৪৮টি দলের তালিকা নিশ্চিত হয় এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অর্ডারের বন্যা শুরু হয়।’
শিয়াও জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও জার্মানির মতো ঐতিহ্যবাহী ফুটবল শক্তিধর দেশগুলোর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নতুন দলগুলোর জাতীয় পতাকার চাহিদাও তারা পূরণ করছেন।
ছিংতাও কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, শেষ মুহূর্তের চাহিদা সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানটির সব উৎপাদন লাইন দিনরাত চালু রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রতিদিন বিভিন্ন আকারের এক লাখের বেশি পতাকা উৎপাদন করা হচ্ছে।
চেচিয়াং প্রদেশের নিংপো-ভিত্তিক লাগেজ ট্যাগ, সিরামিক কাপ ও তাপরোধী পানির বোতল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নিংপো ইকো-উইল টেকনোলজি কো. ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে তাদের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ কোটি ইউয়ানে পৌঁছেছে।
প্রতিষ্ঠানটির বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যবস্থাপক ছিউ ছুনমিয়াও বলেন, ‘বিশ্বকাপ এ বছর তাদের ক্রীড়া-থিমভিত্তিক পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফুটবল দলের লোগোযুক্ত তাপরোধী পানির বোতলের চাহিদা বেড়েছে।’
নিংপো কাস্টমস জানায়, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নিংপো বন্দরের মাধ্যমে ক্রীড়া সামগ্রী ও সরঞ্জাম রপ্তানি ৫৭৪ কোটি ইউয়ানে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি।
চেচিয়াং প্রদেশের ইয়ু-ভিত্তিক পেটেন্টকৃত ফুটবল জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েন ছোংচিয়ান বলেন, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর শুধু উৎপাদনের পরিমাণ নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে না; বরং তারা উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্যের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বেইজিংভিত্তিক চীনা বৈদেশিক অর্থনীতি বিনিময় কেন্দ্রের গবেষক ওয়াং সিয়াওহং বলেন, ‘চীনের উৎপাদন ব্যবস্থা বড় ক্রীড়া আসরকে ঘিরে সৃষ্ট স্বল্পমেয়াদি চাহিদার দ্রুত জবাব দিতে রপ্তানিকারকদের নানা সুবিধা দিচ্ছে।’
তথ্য ও ছবি: চায়না ডেইলি