বুধবার, মে ১৩, ২০২৬
বুধবার, মে ১৩, ২০২৬

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ৩৪ হাজার কোটি টাকা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিসংকট দূর করতে সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

বিএনপি সরকার গঠনের পর তৃতীয় একনেক বৈঠকে এসে প্রথম মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হল।

২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেব বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার এ প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন হবে সরকারের টাকায়।

গত ৬ মে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভ্যবতা জরিপের কাজ শেষ হয়ে আসার তথ্য দিয়েছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সেদিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে যে পানির অভাব দেখা দেয় এবং এর ফলে যে মরুকরণ ও লবণাক্ততার সৃষ্টি হয়, তা রোধ করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণ করা হবে, যা থেকে খাল বা ক্যানেলের মাধ্যমে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ করা যাবে। একই সঙ্গে নদীর নাব্য রক্ষা, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নেও এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে।

খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯টি জেলা এ প্রকল্পের আওতায় আসবে। হিসনামাথাভাঙ্গা, গড়াইমধুমতী, চন্দনাবারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থাপনাকে পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলা হয়েছে প্রকল্প নথিতে।

পাশাপাশি সুন্দরবনে স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা, যশোরের ভবদহসহ জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের উন্নয়ন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

এ প্রকল্পের মূল অংশ হল পদ্মা ব্যারেজ, যা ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো হিসেবে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডার স্লুইস, দুটি ফিশ পাস ও নেভিগেশন লক।

এ ছাড়া গড়াই অফটেক, চন্দনা অফটেক ও হিসনা অফটেক অবকাঠামো নির্মাণের কথা রয়েছে প্রকল্পে।

একই সঙ্গে ১১৩ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে মূল ব্যারাজ থেকে ৭৬ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং গড়াই অফটেক থেকে ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় গড়াইমধুমতী নদীতে ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং এবং হিসনা নদী ব্যবস্থাপনায় ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ করা হবে। এ ছাড়া ১৮০ কিলোমিটার এফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে এ প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব, আন্তঃদেশীয় নদী ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।

এর আগে প্রকল্পটি কয়েক দফা একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলেও তখন অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

আরো ৮ প্রকল্প অনুমোদন

পদ্মা ব্যারেজসহ মোট নয়টি প্রস্তাব এদিন একনেকের অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প দুটি; সংশোধিত প্রকল্প পাঁচটি। এছাড়া একটি প্রকল্পের মেয়াদ বেড়েছে।

নয়টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকার অর্থায়ন করবে সরকার। আর ২০৪ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকার অর্থায়ন করা হবে সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে।

১. সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধন)” প্রকল্পের ব্যয় ২৯০ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

২. সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধন)’ প্রকল্পের ব্যয় ৬২০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে ৫৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

৩. স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘জেলা শহরে বিদ্যমান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে ৩০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে উন্নীতকরণ/পুনর্নির্মাণ (প্রথম ফেইজ)’ প্রকল্পের জন্য ১৩২৯ কোটি ৫৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

৪. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘হাইটেক সিটি২ এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ (তৃতীয় সংশোধন)’ প্রকল্পের ব্যয় ৪৩৩ কোটি ৯৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা থেকে ২ কোটি ২০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

৫. সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি শিশু পরিবার এবং ছোটমনি নিবাস নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধন)’ প্রকল্পের ব্যয় ৫৯৩ কোটি ৪৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা থেকে ২০৮ কোটি ২৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

৬. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘সাভার সেনানিবাসে সৈনিকদের আবাসন সমস্যা নিরসনে ৪ x এসএম ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩৮৫ কোটি ১৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে একনেক।

৭. গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড (পতেঙ্গা হতে সাগরিকা) (পঞ্চম সংশোধনী)’ প্রকল্পের ব্যয় ৩৩২৪ কোটি ১৫ লাখ ৩ হাজার টাকা থেকে ৭৭ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

৮. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ময়মনসিংহ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের জন্য ধনুয়া হতে ময়মনসিংহ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প (প্রথম সংশোধন)’ প্রকল্পের ব্যয় ৭৫৭ কোটি ৯৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা থেকে ২০৪ কোটি ৭৯ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More