বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মস লিমিটেড। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় বাচ্চা উৎপাদনের উপযোগী ১০ হাজার ৪৪০টি ডিম বা ‘হ্যাচিং এগ’ রপ্তানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
রবিবার (২৮ জুন) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতকে রপ্তানিমুখী করার দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক দুয়ার উন্মোচিত হলো, যা দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে।
ডিম রপ্তানি উপলক্ষে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, কাজী ফার্মস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এসময় প্রতিমন্ত্রী হ্যাচিং ডিমের চালান পরিদর্শন করেন এবং কাজী ফার্মসের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের পণ্য যত বেশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করবে, ততই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও তিনি কাজী ফার্মস গ্রুপকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, হ্যাচিং ডিম রপ্তানি দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও রপ্তানিমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সরকারের রপ্তানি বহুমুখীকরণ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
কাজী ফার্মস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পরীক্ষামূলক এই চালান সফল হলে ভবিষ্যতে হ্যাচিং ডিমের পাশাপাশি খাদ্যোপযোগী (টেবিল) ডিমও নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশের পোল্ট্রি শিল্প অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, হ্যাচিং ডিম রপ্তানির এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং কৃষিভিত্তিক রপ্তানিতে নতুন গতি যোগ করবে।