বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬
বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬

স্বপ্ন পানির নিচে, আধপাকা ধান কাটছেন কৃষকেরা

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নদনদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এতে তলিয়ে গেছে নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ বোরো ধানের জমি। আকস্মিক এই বন্যায় একমাত্র ফসল হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে পানির নিচ থেকেই আধপাকা ধান কাটার চেষ্টা করছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জেলার ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন হাওড় এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আধাপাকা ধান পানিতে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও কৃষকেরা কোমর পানিতে নেমে ধান কাটছেন, আবার অনেক জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমির পাকা বোরো ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।

কৃষকদের দাবি. প্রায় ৬ হাজার হেক্টরের বেশি জমি তলিয়ে গেছে

গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে হাওড়ের প্রধান নদনদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইটনা পয়েন্টে ধনু ও বৌলাই নদীর পানি ৪৯ মিলিমিটার, চামড়াঘাট পয়েন্টে মগরা নদীর পানি ৬৩ মিলিমিটার, অষ্টগ্রাম পয়েন্টে কালনী নদীর পানি ৬৯ মিলিমিটার এবং ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি ৫৫ মিলিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগাম বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জেলার প্রধান নদনদীর পানি বেড়েছে। তবে এখনও তা বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, টানা বর্ষণে হাওড় অঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বাড়তি মজুরি দিয়েও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্ষেতেই পাকা ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা বাড়ছে।

নিকলী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া বৈরী থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

গেল সপ্তাহেও অষ্টগ্রামের আব্দুল্লাপুর হাওড়ে ছিল সোনালি ধানের সমারোহ। অথচ এখন সেই হাওড় থইথই পানিতে ডুবে গেছে। চলমান বৃষ্টি ও উজানের ঢলে খোয়াই নদীর পানি উপচে পড়ে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, পানি বাড়তে থাকায় ধান ৮০ ভাগ পাকলেই দ্রুত কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু হাওড় এলাকার তিন উপজেলা—ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামেই আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে। এ বছর জেলায় প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫৮ ভাগ জমি কর্তন করা হয়েছে এবং এই বোরো মৌসুমে ৫৮০ টি হারভেস্টার মেশিন ধান কর্তন করছে।

মশিউর রহমান নাদিম/এজে/দীপ্ত সংবাদ

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More