বিশ্বকাপে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন এবং ফাইনাল শেষে মাঠে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলাসহ একাধিক অভিযোগে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২–১ গোলে হারিয়ে জয় উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার ‘Las Malvinas son Argentinas’ (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনার দাবির প্রতীক হিসেবে ব্যানারটি প্রদর্শন করা হয়।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ১৮৩৩ সাল থেকে দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা এর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। ১৯৮২ সালে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে ৭৪ দিনের যুদ্ধে ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে ৬৪৯ জন আর্জেন্টিনার এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন।
ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালায় খেলাধুলার আসরকে রাজনৈতিক বা অ–ক্রীড়াসংক্রান্ত বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার নিষিদ্ধ। ব্যানার প্রদর্শনের পর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র বলেন, বিশ্বকাপের শিরোপা না পেলেও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটেনেরই থাকবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের ফিফা বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।
এ ধরনের ঘটনার জন্য এর আগেও শাস্তি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের দায়ে দেশটির ফুটবল সংস্থাকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা।
ফিফার অভিযোগপত্রে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, নির্ধারিত সময়ের পরে ম্যাচ শুরু, ম্যাচ ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন, দল ও দর্শকদের মাধ্যমে অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ম্যাচে দর্শকদের বস্তু নিক্ষেপের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১–০ গোলে ফাইনালে হারের পর মাঠে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলার ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও পৃথক তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।
মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে দুটি হামলার অভিযোগ, যার একটি সংঘটিত এবং অন্যটি হামলার চেষ্টা, পাশাপাশি অসৌজন্যমূলক আচরণের একটি অভিযোগ রয়েছে।
সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি হামলার অভিযোগ এবং বদলি বেঞ্চে থাকা থিয়াগো আলমাদার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ঘটনায় স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেছে ফিফা।
ফিফা জানিয়েছে, শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী অভিযুক্তদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের জবাব পাওয়ার পর শৃঙ্খলা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান