ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে, ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোস নাকি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এ নিয়ে ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফুটবলার রবার্তো কার্লোস এবার মুখ খুললেন।

মরক্কোর নাগরিক সুহাইলা আলতাহিরিকে বিয়ে করার পর তার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে অনেক গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এই গুজবের জবাব দিলেন তিনি নিজেই। সেই খবরকে সরাসরি নাকচ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি এই ফুটবলার। একই সঙ্গে ইসলামের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিচিত ব্যক্তি শেখ জিহাদ হামাদার কাছে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস। তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সংসদ সদস্য আলী শাহিনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

আলী শাহিন জানিয়েছিলেন, সাও পাওলোতে শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে সাক্ষাতের পর কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এর সঙ্গে ইসলামি রীতিতে বিয়ের কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ায় গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

তবে সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘ওকাজ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্লোস পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তার ইসলাম গ্রহণের খবর সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘ইসলামের প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখা দারুণ এক অভিজ্ঞতা, তবে আমার ধর্মান্তরিত হওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য।’

বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক এই লেফটব্যাক। তার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক হওয়ায় তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী একটি আয়োজন ছিল। একই সঙ্গে তার মরক্কান স্ত্রী ও মুসলিম বন্ধুদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইসলামি রীতিতেও আয়োজন করা হয়।

কার্লোস বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক। তাদের বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে যেমন আয়োজন ছিল, তেমনই আমার মরোক্কান স্ত্রী ও তার মুসলিম বন্ধুদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা মাথায় রেখে সেই ধর্মীয় রীতিও রাখা হয়েছিল।’ কার্লোস স্পষ্ট করেছেন, স্ত্রীর ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ এটা নয় যে তিনি নিজে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।

সোহাইলা আল তাহিরির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের শুরু নিয়েও কথা বলেছেন কার্লোস। ফুটবলসংক্রান্ত একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। সোহাইলাকে সফল নারী ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে কার্লোস জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তাদের সম্পর্ক। এই সময়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত—দুই ক্ষেত্রেই তাদের বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে।

কার্লোসের জন্য এটি তৃতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তার তিন সন্তান। এরপর ২০০৯ সালের জুনে মারিয়ানা লুকনের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ১৫ বছরের বেশি সময় সংসারের পর ২০২৫ সালের শুরুতে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই সংসারে কার্লোসের ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭ জন নারীর গর্ভে কার্লোসের ১১ সন্তান।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More