শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন কেইশা ল্যান্স বটমস নির্বাচনে হারের জন্য এবার ইরান যুদ্ধকে দুষলেন ট্রাম্প ডিসেম্বর থেকে কার্যকর পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন.সিনেটের পর প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও পেল ডেমোক্র্যাট শ্রমিক অসন্তোষ: শিল্পাঞ্চলে ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হলেন আবদুল এল-সায়েদ নিম্নতম মজুরি বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম, ভরি কত? নির্বাচনের ফল মেনে নিতে ‘প্রস্তুত’: ট্রাম্প প্রি-পেইড মিটারে রিচার্জ নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
দীপ্ত নিউজ
জীবনযাপন

আজ স্ত্রীর প্রশংসা করার দিন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
আজ স্ত্রীর প্রশংসা করার দিন

সংসার নামক জটিল সমীকরণটি কেবল ইট–কাঠের গাঁথুনিতে টিকে থাকে না; এটি সচল থাকে একজন নারীর অদৃশ্য মায়া, সীমাহীন ত্যাগ আর নিরলস পরিশ্রমে। সকালের নাস্তা তৈরি থেকে শুরু করে সন্তানের দেখভাল, কিংবা স্বামীর পেশাগত জীবনে মানসিক সমর্থন জোগানো—সব মিলিয়ে একজন স্ত্রী যেন একাই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান। অথচ, প্রতিদিনের এই রুটিনমাফিক ব্যস্ততায় সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয় তার এই নীরব অবদানের স্বীকৃতিটুকু।

জীবনের এই একঘেয়েমি আর না–বলা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্যই ক্যালেন্ডারের পাতায় আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে একটি বিশেষ দিন। আজ ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’ বা ‘ওয়াইফ অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে’।

সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০০৬ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এই দিনটি উদযাপনের চল শুরু হয়। তবে ভৌগোলিক সীমারেখা পেরিয়ে দিবসটির মূল আবেদন এখন সর্বজনীন। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো দাম্পত্য সম্পর্কে স্ত্রীর যত্ন, ভালোবাসা আর প্রতিদিনের ছোট–বড় আত্মত্যাগের প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান জানানো।

কর্মব্যস্ত জীবনে স্বামী–স্ত্রী উভয়েই যখন যান্ত্রিক হয়ে পড়েন, তখন ‘ভালোবাসি’ বা ‘ধন্যবাদ’ শব্দগুলো ক্রমশ হারিয়ে যেতে থাকে। সংসারের হাজারো ঝামেলার আড়ালে চাপা পড়ে যায় রোমান্স। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে এই দিবসটি একটি সুন্দর অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে। প্রিয়জনের কাছ থেকে পাওয়া ছোট্ট একটি প্রশংসাবাক্য মানসিক ক্লান্তি দূর করে সম্পর্কে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে পারে।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য এই দিনে দামি কোনো উপহার বা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মোটেও বাধ্যবাধকতা নেই। বরং আবেগের প্রকাশটাই এখানে মুখ্য। অফিস থেকে ফেরার পথে একগুচ্ছ প্রিয় ফুল, কিংবা দিনের শেষে পাশাপাশি বসে বলা—“তুমি আছ বলেই আমার জীবনটা এত সহজ“—এমন একটি বাক্যই স্ত্রীর মুখে প্রশান্তির হাসি ফোটানোর জন্য যথেষ্ট।

ডিজিটাল যোগাযোগের এই যুগে ছোট্ট একটি হাতে লেখা চিরকুটও হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে দামি উপহার, যেখানে লেখা থাকবে তার সেসব অবদানের কথা, যা হয়তো কখনো মুখে বলা হয়নি।

স্ত্রী কখনো আদর্শ প্রেমিকা, কখনো নির্ভরতার প্রতীক, আবার কখনো জীবনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। সম্পর্কের এই বহুমুখী রূপকে উদ্‌যাপন করার সুযোগটি তাই হেলায় হারানো উচিত নয়। ভালোবাসা প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনের প্রয়োজন হয় না ঠিকই, তবে বছরের অন্তত একটি দিন যদি মানুষকে প্রিয় জীবনসঙ্গীর প্রতি আরেকটু বেশি যত্নশীল হতে শেখায়, তবে সেটুকু সময় একান্তই তার প্রাপ্য।