শিরোনাম
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপজয় দিয়ে অভিযান শুরু করতে চায় হামজা-তপুরা এইচএসসি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার আবেদন শুরু বৃহস্পতিবার, যেভাবে করবেন অভাবকে জয় করে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন বরগুনার সাওদা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন কেইশা ল্যান্স বটমস নির্বাচনে হারের জন্য এবার ইরান যুদ্ধকে দুষলেন ট্রাম্প ডিসেম্বর থেকে কার্যকর পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনসিনেটের পর প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও পেল ডেমোক্র্যাট শ্রমিক অসন্তোষ: শিল্পাঞ্চলে ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হলেন আবদুল এল-সায়েদ
দীপ্ত নিউজ
সারাদেশ

অভাবকে জয় করে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন বরগুনার সাওদা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ:
অভাবকে জয় করে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন বরগুনার সাওদা
ছবি: দীপ্ত নিউজ

অভাব–অনটন আর শত প্রতিকূলতা যে অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মানে, তা আবারও প্রমাণ করলেন বরগুনার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থী সাওদা। চরম অর্থনৈতিক সংকট ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক শাখা থেকে জিপিএ–৫ অর্জন করেছেন। তার এই সাফল্যে শুধু পরিবারেই নয়, পুরো এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার।

বরগুনা সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী সাওদা এক সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার বাবা অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে সংসার চালান।

এসএসসি পরীক্ষায় অসুস্থতার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলেও দমে যাননি সাওদা। সেই ফলাফল তাকে মানসিকভাবে আরও দৃঢ় করে তোলে।

নিজের সাফল্যের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে সাওদা জানান, “এসএসসির সময় আমি অসুস্থ থাকায় আশানুরূপ রেজাল্ট হয়নি, যদিও জিপিএ–৫ পাওয়ার আশা ছিল। তখনই ঠিক করেছিলাম, এইচএসসিতে যেকোনো মূল্যে আমাকে ভালো ফল করতেই হবে। সেই অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করেছি। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ আমি জিপিএ–৫ পেয়েছি।“

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কোচিং করছেন এবং ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করতে চান।

সাওদার বাবা আবদুল কুদ্দুস হাওলাদার বলেন, “আমি একজন সাধারণ কৃষক। মেয়েকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করাচ্ছি। সে এ প্লাস পাওয়ায় আমি অনেক খুশি।“

সাওদার মা লাইজু আক্তার বলেন, “কি বলে যে আমি আমার মেয়েকে সংবর্ধনা দেব জানি না। মেয়ের এই সাফল্যে আমি সত্যিই অনেক খুশি।“

সাওদার ফুফাতো ভাই ছিবগাতুল্লাহ বলেন, “আমার বোন এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে থেকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে এ প্লাস পেয়েছে। এতে আমাদের পরিবারের সবাই অনেক খুশি।“

প্রতিবেশী শাহীন আলম বলেন, “তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে শুধু আমি না, এই এলাকার সবাই অনেক গর্বিত।“

নিজের চেষ্টা আর বাবা–মায়ের ত্যাগ ও ভালোবাসার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। এই অর্জন কেবল একটি ফলাফল নয়, বরং সাহস ও সংকল্পের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।