দীপ্ত নিউজ
বাংলাদেশ

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘মুরাসু’, কখন কোথায় আঘাত হানবে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ:
প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘মুরাসু’, কখন কোথায় আঘাত হানবে
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত নিয়েছে। এটি আরও উত্তর–পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার রাত নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে ভারতের অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

সোমবার (২ নভেম্বর) আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত আবহাওয়া অধিদফতরের ৮–নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সোমবার ভোররাত ৩টায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১২৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, এদিনই অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঝড়টি। রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে তা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

এ সময় ঝড়টির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ উঠতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, ভোররাতে প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৯ কিলেমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

 

মুরাসু’ শব্দের অর্থ কী?

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’র রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক ঘূর্ণিঝড়ের নিশানায় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ। গত সপ্তাহতেই অন্ধ্রের দিকে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। এবার আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। এই ‘মুরাসু’ শব্দটির অর্থ কী? এমন প্রশ্ন অনেকেরই মনে।

 

প্রতিবেদন অনুসারে, এটি একটি তামিল শব্দ, যার অর্থ হলো ড্রাম বা রণঢাক জাতীয় বাদ্যযন্ত্র। এই বাদ্যযন্ত্র দিয়ে দুর্যোগ সম্পর্কে বা কিছু ঘোষণা করতে, সবাইকে সচেতন করা হয়ে থাকে। অনেক সময় এটিকে যুদ্ধ বাদ্য হিসেবেও ধরে নেওয়া হয়। সঙ্গম সাহিত্য ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মুরাসু মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে।

 

এর মধ্যে একটি হলো, বীরা মুরাসু, যা যুদ্ধের উদ্দেশে ব্যবহৃত রণদামামা বা সামরিক ড্রাম হিসাবে ব্যবহৃত হতো। আরেকটি হলো, ত্যাগা মুরাসু। এটি উপহার দেয়া বা দরিদ্র মানুষদের খাদ্য ও সামগ্রী দেয়ার আহ্বানে ব্যবহৃত বাদ্য। তৃতীয়টি, ন্যায় মুরাসু। এটি মূলত, বিচারকার্য পরিচালনা এবং জনগণের অভিযোগ শোনার জন্য ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র।