পুলিশের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে জনপ্রিয় ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে হরিয়ানার গুরুগ্রাম পুলিশ। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে (এইচটি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত একটি পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া ঠেকাতে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬–এর কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটিতে অবস্থিত ধ্রুব রাঠির বাসভবনে যায় পুলিশের একটি দল।
গুরুগ্রাম পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ওই বিক্ষোভে অংশ নিতে রাঠিকে দিল্লিতে না যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। কিন্তু তিনি পুলিশের সেই নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আটক করা হয়।
এদিকে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে প্রতিবাদ জানাতে ককরোচ পার্টির সদস্যরা ‘জেলে যেতেও প্রস্তুত‘ বলে জানিয়েছেন এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এ ইস্যুতে তার আন্দোলন থামবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
দীপকে বলেন, কারাবাসের হুমকি দিয়ে তাকে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখা যাবে না। গ্রেপ্তার হতেও প্রস্তুত তিনি।
এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দীপকে বলেন, ‘আপনারা যদি মনে করেন, জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে বা কারাবাসের ভয় দেখিয়ে আমাদের থামাতে পারবেন, তাহলে ভুল ভাবছেন। আমরা জেলে যেতেও প্রস্তুত। আপনারা চাইলে আমাদের কারাগারে পাঠান, জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ), বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ) বা আপনাদের পছন্দমতো যেকোনো আইন প্রয়োগ করুন। কিন্তু এ দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় আমাদের লড়াই চলবে।‘
তিনি অভিযোগ করেন, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ভারতের গণতন্ত্র রক্ষায় তার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে এক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে রাজধানী দিল্লিকে। ভোটার তালিকার এসআইআরে কথিত অনিয়মের অভিযোগে ককরোচ পার্টির (সিজেপি) এই কর্মসূচি ঘিরে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ৪০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বসানো হয়েছে কাঁটাতার, পেরেকযুক্ত স্পাইক স্ট্রিপ ও ব্যারিকেড।
ভোটার তালিকা সংশোধনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এর আগে গত ২ অক্টোবর মুম্বাইতে বিক্ষোভ করেছিল সিজেপি। সেই ধারাবাহিকতায় দিল্লিতে এই নতুন আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ আয়োজনের প্রয়োজনীয় অনুমতি আয়োজকদের ছিল না এবং জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।