নিখোঁজের আগে সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে যাকে দেখা গেল

Avatar photoদীপ্ত নিউজ ডেস্ক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহজনক হিসেবে তুহিন নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে মরদেহ উদ্ধারের পর কোটবাড়ী এলাকা থেকে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটক তুহিনের বাড়ি সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তাকে উদ্ধারে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। কোটবাড়ী ও বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হয়। শনিবার সকালে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় একটি ফুটেজে অপ্রতিমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে এক কিশোরের সঙ্গে দেখতে পাওয়া যায়। তার বয়স অপ্রতিমের চেয়ে বেশি এবং মাথায় ক্যাপ পরা ছিল।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম বলেন, প্রক্টরিয়াল টিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয় এক ছেলেকে অপ্রতিমের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করতে দেখে। তার গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল। আমরা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছি। তারা তাদের কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গতকাল শুক্রবার অপ্রতিম বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, ডিনসহ শিক্ষককর্মকর্তারা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই সঙ্গে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি টিম গতকাল থেকেই কাজ শুরু করে। আজ তার লাশ পাওয়া গেছে। আমাদের সন্তানের লাশ কত ভারী, তা বোঝানোর ক্ষমতা নেই।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাইবাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল দুপুরে কোটবাড়ী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। সে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে সে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল বলে জানায় তার পরিবার। শনিবার বেলা ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পুলিশের জানায়, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সেটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। সূত্র: সমকাল।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More