অপ্রতিমের মর্মান্তিক ঘটনা পুলিশকে নাড়া দিয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। ইতোমধ্যে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে এবং একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের স্থান পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, কিছু তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয়সহ তদন্তের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। ঘটনাটি সবাইকে কাঁদিয়েছে। ছোট্ট নিষ্পাপ একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, ঘটনার মোটিভসহ সবকিছু খুব শিগগির তদন্ত করে জানানো হবে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় আটক একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তির মোবাইল, প্রযুক্তিগত তথ্য, লোকেশন এবং অপ্রতিমের অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যাকে আটক করা হয়েছে, তিনি নির্দোষও হতে পারেন, আবার জড়িতও থাকতে পারেন। তাই তদন্তের এ পর্যায়ে মূল হত্যাকারীরা যেন কোনো তথ্য পেয়ে আত্মগোপনে যেতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের একজনকে পুলিশ আটক করেছে। বিকেলে আনাস নামের আরও একজনকে আটক করেছে এসআরবি।