বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে জানিয়ে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদের (কুষ্টিয়া–১) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।
গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪৩টি পণ্যবাহী ট্রেন আসছে এবং ৪২টি খালি রেক ফেরত যাচ্ছে উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, রহনপুর, দর্শনা ও বেনাপোল ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন গ্রহণ করা হচ্ছে এবং খালি রেক ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
এছাড়া মন্ত্রী জানান, রাজশাহী–কলকাতা–রাজশাহী রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি বর্তমানে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুনের (জামালপুর–৫) আরেকটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে রবিউল আলম বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও রেলওয়ে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান সরকার এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
রেলমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বর্তমানে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পগুলো হলো—মধুখালী থেকে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ; বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ; শেরপুর–রৌমারী রেল যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ড লাইন নির্মাণ।
মন্ত্রী আরও বলেন, রেলওয়ে সম্প্রসারণে তিনটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা; নেত্রকোনার ঝারিয়া ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন এবং সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা।
রবিউল আলম বলেন, ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে আরও প্রকল্প নেওয়া হবে, যাতে দেশের সব জেলায় রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা যায়।