‘ট্রান্সফার ব্যান’ বা দলবদল নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোস। ফরাসি ক্লাব মোনাকোর পাওনা প্রায় ১৭ লাখ পাউন্ড পরিশোধের পরই ক্লাবটি থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ফিফা।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলের অন্যতম ঐতিহাসিক এই ক্লাব।
২০২৩ সালে মিডফিল্ডার জিয়ান লুকাসের দলবদল সংক্রান্ত প্রায় ২০ লাখ ৩২ হাজার ইউরো বকেয়া ছিল। এই দেনা পুরোপুরি শোধ করার ফলে ‘পেইসে’ বা সান্তোস এখন থেকে আবারও নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধন বা স্কোয়াডে ভিড়াতে সম্পূর্ণ মুক্ত।
নেইমার জুনিয়রের ইমেজ রাইটস বা ভাবমূর্তি স্বত্ব ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কোম্পানি ‘এনআর স্পোর্টস’–এর সঙ্গে এক অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই মূলত এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করেছে এই কোম্পানিটি।
এর বিনিময়ে সান্তোস ক্লাবটি তাদের অব্যবিক্রীত বা এখনও বিক্রি না হওয়া জার্সি স্পনসরশিপ বা ইউনিফর্ম রাইটস নিয়ে এনআর স্পোর্টসের সাথে আলোচনা করবে।
ফরাসি ক্লাব মোনাকোর কাছে বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে না পারার কারণেই সান্তোস মূলত এই শাস্তির মুখে পড়েছিল। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ৬ মিলিয়ন ইউরোতে মিডফিল্ডার জিয়ান লুকাসকে দলে ভিড়িয়েছিল সান্তোস। চুক্তি অনুযায়ী ট্রান্সফার ফি‘র এই টাকা তিনটি সমান কিস্তিতে (প্রতি কিস্তি ২০ ইউরো করে) দেওয়ার কথা ছিল। প্রথম দুটি কিস্তি যথাসময় পরিশোধ করা হলেও, ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি নির্ধারিত তৃতীয় কিস্তিটি পরিশোধ করতে পারেনি ক্লাবটি।
পেমেন্ট দিতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সান্তোস বোর্ড ফরাসি ক্লাবটির সাথে দেনা পুনর্নির্ধারণের চেষ্টা চালায়। বকেয়া টাকা দুটি কিস্তিতে পরিশোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৫ সালের আগস্ট এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস। তবে নিজেদের পূর্ববর্তী আর্থিক প্রতিশ্রুতির কথা বলে সান্তোসের সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় মোনাকো।
উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় চলতি বছরের মার্চে বিষয়টি ফিফার দরবারে নিয়ে যায় ফরাসি ক্লাবটি।
এসএ