বয়স মাত্র ১৯, অথচ ফুটবল বিশ্বে ইতোমধ্যেই একাধিক ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন লামিন ইয়ামাল। স্পেনের এই তরুণ উইঙ্গার এবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন এক বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনে।
পপ তারকা শাকিরা ও বার্সা কিংবদন্তি জেরার্ড পিকের সেই বহুল আলোচিত রাজপ্রাসাদের মালিক এখন ইয়ামাল।
বার্সেলোনার ‘এসপ্লুগেস দে ইয়োব্রেগাত‘-এর এক্সক্লুসিভ ‘সিউদাদ ডায়াগোনাল‘ এলাকায় অবস্থিত এই বাড়ির দাম ১ কোটি ইউরোরও বেশি। বাংলাদেশী টাকায় যা প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।
পিকে–শাকিরার সম্পর্কের শুরু ২০১০ সালে। বাড়িটি নির্মাণ করা হয় ২০১২ সালে। তখন থেকে ২০২২ সালে বিচ্ছেদের আগপর্যন্ত তাঁরা সেই বাড়িতেই থাকতেন। দুজন আলাদা হয়ে যাওয়ার পরপরই বাড়িটি বিক্রির জন্য তোলা হয়।
২০১২ সালে স্থপতি মিরিয়া আদমেতলের এর নকশা তৈরি করেছিলেন। পুরো সম্পত্তিটি ৩৮০০ বর্গমিটারের ওপর নির্মিত, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি মূল তলা এবং দুটি ভূগর্ভস্থ তলা।
বিশাল এই প্রাসাদে রয়েছে চোখধাঁধানো সব আয়োজন। জলপ্রপাতসহ বাইরের সুইমিং পুল, একটি ইনডোর সুইমিং পুল, নিজস্ব জিমনেসিয়াম, প্যাডেল কোর্ট এবং একটি মিনি প্রাইভেট ফুটবল মাঠ খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করে। বিনোদনের জন্য এতে যুক্ত রয়েছে বিশাল সিনেমা হল, ওয়াইন সেলার। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় এখানে রয়েছে শাকিরার সেই বিখ্যাত সাউন্ডপ্রুফ রেকর্ড স্টুডিও!
বিশাল কাঁচের জানালা দিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই প্রাসাদের বেলকনি থেকে গোটা বার্সেলোনা শহর ও ভূমধ্যসাগরের মনোরম দৃশ্য সরাসরি দেখা যায়।
১৮ বছর বয়সে চুক্তি শুরু করে অবশেষে এই ঐতিহ্যবাহী প্রাসাদের মালিক হলেন ইয়ামাল। যে বাড়ি একসময় শাকিরা ও পিকের বহু পারিবারিক স্মৃতির সাক্ষী ছিল, সেটিই এখন এই তরুণ ফুটবল তারকার নতুন রাজকীয় ঠিকানা।
রোকাপোন্দা থেকে রাজকীয় প্রাসাদ— ইয়ামালের পথচলাটা কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্সেলোনা মূল দলে অভিষেক, আর এর কয়েক মাসের মধ্যেই জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে ইতিহাস গড়া। ইতোমধ্যেই তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৩ লিগ শিরোপা, ইউরো কাপ এবং বিশ্বকাপ শিরোপা।
বার্সেলোনা ও স্পেন—দুই দলের জন্যই এখন অপরিহার্য ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল।
এসএ