শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাগলা মসজিদে এবার ১৫ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে

Avatar photoমৃন্ময় মাসুদ
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবারও বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকাল ৩টা পর্যন্ত সাড়ে ১২ কোটি টাকা গণনা করা হয়েছে। রাত পর্যন্ত এই গণনা চলবে এবং টাকার চূড়ান্ত পরিমাণ ১৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছে মসজিদ কমিটি।

শনিবার সকাল ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের নেতৃত্বে এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর সিন্দুক থেকে টাকা বস্তায় ভরে মেঝেতে ঢেলে গণনা শুরু হয়।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান জানান, দিনের প্রথম ভাগে বড় নোটগুলো গণনা শেষে দুপুর ১২টার দিকে ১০ কোটি টাকা রূপালী ব্যাংকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বিকাল ৩টা পর্যন্ত মোট সাড়ে ১২ কোটি টাকা পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে ছোট নোটগুলোর গণনা চলছে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞে আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানার প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মী এবং সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় ৫০০ জন নিয়োজিত আছেন।

এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্সগুলো খুলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। নগদ টাকা ছাড়াও দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও হীরা পাওয়া যায়। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ নিজেদের মনের আশা পূরণের বিশ্বাস থেকে এই মসজিদে নিয়মিত নগদ অর্থসহ হাঁসমুরগি, গরুছাগল দান করে থাকেন।

পাগলা মসজিদে দানের এই বিপুল অর্থ জনকল্যাণ ও মসজিদের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, ব্যাংকে নগদ ও অনলাইনে জমার পরিমাণ ইতোমধ্যে ১১৪ কোটি টাকার বেশি। এই টাকার লভ্যাংশ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানায় অনুদান দেয়ার পাশাপাশি জটিল রোগে আক্রান্ত অসহায় মানুষদের আর্থিক সহায়তা করা হয়।

মসজিদের কলেবর বৃদ্ধি করতে সম্প্রতি আরও ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ জায়গা কেনা হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আধুনিক তুরস্কের বসফরাস প্রণালীর পাশের একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদের আদলে এখানে একটি ১০ তলা বিশিষ্ট ইসলামি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। এটি নির্মিত হলে সেখানে ৫ হাজার নারীর জন্য আলাদা ব্যবস্থাসহ একসঙ্গে ৪০৫০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।

আরও পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More