জুয়া, অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিংসহ অনুরূপ কার্যক্রম প্রতিরোধে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। বিলে এ ধরনের অপরাধের জন্য অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। পরে বিলটি পরীক্ষা–নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন।
এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য জয়নুল আবেদীন।
বিলটি উত্থাপনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তার মোকাবিলায় নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে জুয়া কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় প্রচলিত আইন দিয়ে এসব নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক আমলের ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ আধুনিক বাস্তবতায় আর কার্যকর নয়। তাই বিদ্যমান আইনকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করার লক্ষ্যে নতুন বিলটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে ডিজিটাল জুয়া প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বেটিং ও ওয়েজারিং, ডিজিটাল সম্পদ ও ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, পেশাদার বুকমেকার, ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংয়ের মতো নতুন ধারণাগুলোর আইনি সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের মতে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে জুয়ার ধরন ও পরিসর ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, যা জনশৃঙ্খলা, সামাজিক স্থিতিশীলতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আর্থিক নিরাপত্তার জন্য নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাইবার অপরাধ তদন্তকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশভিত্তিক ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত অনলাইন বেটিং নেটওয়ার্কের বিস্তার নিয়ে সতর্ক করে আসছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক জুয়া প্ল্যাটফর্মে স্থানীয় ব্যবহারকারী যুক্ত করার অভিযোগে বিভিন্ন অবৈধ বেটিং চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেল ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে।