রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির স্বামী মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাথরুমের বিশেষ কায়দায় তৈরি ফলস সিলিং ও গোপন সুড়ঙ্গে লুকিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। পুলিশের দাবি, মামুনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় প্রতারণাসহ বেশ কয়েটি মামলা রয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ–পুলিশ কমিশনার আল আমিন হোসেন জানান, গুলশান থানায় দায়ের হওয়া একটি প্রতারণা মামলায় শুক্রবার রাতে মামুনকে গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পুলিশ। রাত গড়িয়ে সকাল হলেও ফ্ল্যাটের কোথাও তার হদিস মিলছিল না। পুরো ফ্ল্যাট তন্ন তন্ন করে খোঁজার পর একপর্যায়ে পুলিশের সন্দেহ হয় বাথরুমের ওপর। সেখানে তল্লাশি চালাতে গিয়ে বাথরুমের দেয়ালের পেছনে বিশেষ কায়দায় তৈরি একটি গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া যায় এবং সেখান থেকেই মামুনকে আত্মগোপন করা অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বিটিএল গ্রুপের মালিক মির্জা আবুল বাশার মামুন বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। জমির ব্যবসা, চাল কিংবা তেলের ডিলারশিপ দেয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়ে যেতেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করারও অভিযোগ রয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক প্রতারণার সঙ্গে চিত্রনায়িকা ববির কোনো সম্পৃক্ততা বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।