আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার নতুন একটি ধাপ ‘এল নিনো’ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। এতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক দেশেই অস্বাভাবিক গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের অধীনস্থ বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়ে এল নিনোর প্রভাব আরও শক্তিশালী হতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে বলেছিল, চলতি বছরের এল নিনো ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী হতে পারে। কেউ কেউ একে ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে অভিহিত করছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এল নিনো কখন শুরু হবে, তা নির্দিষ্টভাবে পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিজ্ঞানীরা বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এল নিনো কীভাবে সৃষ্টি হয়?
এল নিনো সাধারণত তখনই সৃষ্টি হয়, যখন প্রশান্ত মহাসাগরে বাতাসের স্বাভাবিক দিক পরিবর্তিত হয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠে। এই উষ্ণতা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরন বদলে দেয় এবং অনেক অঞ্চলে তীব্র গরম, খরা ও ভারী বৃষ্টিপাতের মতো চরম পরিস্থিতি তৈরি করে।
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দফতরের বিজ্ঞানী অধ্যাপক অ্যাডাম স্কাইফ বিবিসিকে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস বড় ধরনের এল নিনো আসছে। এটি রেকর্ড ভাঙতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন এই জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিকভাবে খাদ্য উৎপাদন, পানি সরবরাহ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সূত্র: বিবিসি।