জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবিকার সন্ধানে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ খাগড়াছড়া এলাকার যুবক সুরুজ কাজী। পরে তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে চলমান রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেন। অবশেষে যুদ্ধক্ষেত্রেই নিহত হয়েছেন তিনি। এ খবরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, পরিবারে চলছে আহাজারি।
নিহত সুরুজ কাজী মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ খাগড়াছড়া এলাকার শাহাবুদ্দিন কাজীর ছেলে।এদিকে নিহত সুরুজ কাজীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে রাশিয়ায় যান সুরুজ কাজী। সেখানে বিভিন্ন কাজ করার পর একপর্যায়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হন। সম্প্রতি যুদ্ধ চলাকালে তিনি নিহত হয়েছেন বলে পরিবারের কাছে খবর আসে। তবে গত তিনদিন আগে মৃত্যুবরণ করে, গতকাল বিকেলে খবর পায় তার পরিবার।
সুরুজের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই তার বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর ভিড় বাড়ছে। পরিবারের সদস্যরা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। বিশেষ করে বৃদ্ধ বাবা–মায়ের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
নিহতের এক স্বজন রহমত বলেন, “সংসারের হাল ধরতে বিদেশে গিয়েছিল সুরুজ। কে জানতো যুদ্ধেই তার প্রাণ চলে যাবে। আমরা তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।”
স্থানীয় এক প্রতিবেশী রবিন বলেন, “সুরুজ খুবই শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। পরিবারের জন্য নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল। তার এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া খুব কষ্টের।”
প্রতিবেশী রবিন বলেন, “সুরুজ খুব শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। পরিবারের জন্য নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল। তাঁর এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া খুব কষ্টের।”
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, `নিহতের ঘটনা আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এখন এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়া হবে। তবে লাশ আনার ব্যাপারে নিহতের পরিবার সহযোগিতা চাইলে, নিয়মমতো তাঁদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
রফিকুল ইসলাম