রাজধানীর বারিধারায় ‘ডি মাজেন্ড গীর্জায়’ সংঘটিত দস্যুতার ঘটনায় আলামতসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন– আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবু (৩৬), মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজান (৩৭) ও আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনির (৩৮)।
ভাটারা থানা সূত্রে জানায়, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে দুইজন দুর্বৃত্ত বারিধারা ‘ডি মাজেন্ড গীর্জায়’ প্রবেশ করে। তারপর তারা গীর্জার স্টাফদের রুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়।
পরে তারা উক্ত গীর্জার পরিচালক ফাদার সুবাস পুলক গমেজের অফিস রুমের গ্রিল কেটে ভিতরে ঢুকে ফাদারের হাত–পা ও মুখ বেঁধে রেখে রুমের আলমারি খুলে নগদ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, একটি পাসপোর্ট ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র নিয়ে অজ্ঞাতনামা অন্য একজন দুষ্কৃতিকারীর সহায়তায় দেয়াল টপকে ব্যাটারি চালিত রিকশায় পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ভাটারা থানা পুলিশ রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনিরকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে এ ঘটনায় ব্যবহৃত ব্যাটারি চালিত রিকশা ও লুণ্ঠিত নগদ ১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আক্তার হোসেন মনার তথ্য অনুযায়ী, একই দিন বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজানকে গ্রেফতার করা হয় এবং এসময় তার কাছ থেকে লুণ্ঠিত নগদ ৪৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য মতে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবুকে রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন আমতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে একটি পাসপোর্ট, একটি জাতীয় পরিচয় পত্রসহ লুণ্ঠিত নগদ ১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবুর বিরুদ্ধে রাজধানীর খিলক্ষেতসহ দেশের বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা রয়েছে এবং মোহাম্মদ নিজাম ওরফে মিজানের বিরুদ্ধে কুমিল্লার লালমাই থানায় একটি দস্যুতার মামলা এবং আক্তার হোসেন মনা ওরফে মনিরের বিরুদ্ধে সিএমপির হালিশহর থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ–কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।